৯৮১ দিন পর ফিরে পেলের পাশে নেইমার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
৯৮১ দিন পর ফিরে পেলের পাশে নেইমার
নেইমার জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার মুহূর্তটি শুধু নেইমারের ফেরা ছিল না, ছিল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের আরেকটি মাইলফলকও। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে ম্যাচ খেলার সংখ্যায় পেলের পাশে বসলেন নেইমার।

Advertisement

মায়ামিতে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন নেইমার। মাতেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে তার মাঠে নামতেই ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। চোট, পুনর্বাসন, শারীরিক প্রস্তুতির অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার হলুদ জার্সিতে দেখা গেল ব্রাজিলের নম্বর ১০-কে।

এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে নেইমারের ১৪তম ম্যাচ। এর ফলে পেলের সমান বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়লেন তিনি। পেলের পাশাপাশি গিলমার ও লিয়াওরও বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে ১৪টি করে ম্যাচ আছে। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড কাফুর, ২০ ম্যাচ।

নেইমারের ফেরাটা এসেছে ৯৮১ দিনের অপেক্ষার পর। ব্রাজিলের হয়ে তার আগের ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে। মন্টেভিডিওতে সেই ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোট পান তিনি। পরে জানা যায়, তার অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ও মেনিসকাস ছিঁড়ে গেছে। সেই চোট তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রাখে।

চোট কাটিয়ে ফিরলেও পথ সহজ ছিল না। পুনর্বাসনের পর আবারও শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন নেইমার। ব্রাজিল দলে ফিরলেও এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। পায়ের পেশির চোটের কারণে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তাঁর।

স্কটল্যান্ড ম্যাচে অবশেষে সেই অপেক্ষা শেষ হয়। ম্যাচের ফলের হিসাবের বাইরে নেইমারের মাঠে নামা ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আলাদা আবেগের মুহূর্ত হয়ে ওঠে। কারণ ২০১০ সালে অভিষেকের পর থেকে নেইমার ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখগুলোর একজন। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর তার ফেরা তাই শুধু একজন ফুটবলারের ফেরা নয়, এক যুগেরও বেশি সময়ের ব্রাজিল গল্পের ধারাবাহিকতা।

নেইমারের ব্রাজিল অভিষেক হয়েছিল ২০১০ সালের ১০ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ২-০ গোলে। অভিষেকেই গোল করেছিলেন নেইমার। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় দলের প্রধান তারকা। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল ৭৯টি।

বিশ্বকাপে নেইমারের যাত্রা শুরু ২০১৪ সালে, ঘরের মাঠের আসরে। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি। ২০২৬ আসর তার চতুর্থ বিশ্বকাপ। তবে আগের তিন আসরের মতো এবার শুরুটা সহজ ছিল না। চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার পর সেই অপেক্ষার শেষ হলো।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় শীর্ষে কাফু। তার ম্যাচ ২০টি। এরপর রোনালদো ১৯ ম্যাচ, দুঙ্গা ও তাফারেল ১৮ ম্যাচ, লুসিও ও রবার্তো কার্লোস ১৭ ম্যাচ খেলেছেন। গিলবের্তো সিলভা ও জাইরজিনিওর ম্যাচ ১৬টি। বেবেতো, দিদি, নিলতন সান্তোস, রিভেলিনো ও থিয়াগো সিলভা খেলেছেন ১৫টি করে ম্যাচ। নেইমার এখন পেলে, গিলমার ও লিয়াওর সঙ্গে ১৪ ম্যাচের কাতারে।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে বেশি ম্যাচ

  • কাফু: ২০
  • রোনালদো: ১৯
  • দুঙ্গা: ১৮
  • তাফারেল: ১৮
  • লুসিও: ১৭
  • রবার্তো কার্লোস: ১৭
  • গিলবের্তো সিলভা: ১৬
  • জাইরজিনিও: ১৬
  • বেবেতো: ১৫
  • দিদি: ১৫
  • নিলতন সান্তোস: ১৫
  • রিভেলিনো: ১৫
  • থিয়াগো সিলভা: ১৫
  • নেইমার: ১৪
  • পেলে: ১৪
  • গিলমার: ১৪
  • লিয়াও: ১৪

পেলের সঙ্গে একই সংখ্যায় পৌঁছানো নেইমারের জন্য বড় মাইলফলক। গোলের হিসাবে তিনি আগেই ব্রাজিলের ইতিহাসে শীর্ষে উঠেছেন। এবার বিশ্বকাপ ম্যাচের হিসাবেও তিনি ঢুকে গেলেন দেশের সেরা তালিকার প্রথম সারিতে।

তবে এই ফেরা শুধু রেকর্ডের নয়, সময়েরও। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামা, বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেই পেলের পাশে বসা, আর ব্রাজিলের শেষ ৩২ অভিযানের আগে দলে নতুন আবেগ যোগ করা, সব মিলিয়ে স্কটল্যান্ড ম্যাচে নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় খবর।