বেলিংহ্যামের গোল-অ্যাসিস্টে গ্রুপসেরা ইংল্যান্ড

বল ছিল ইংল্যান্ডের পায়ে, কিন্তু পথ খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। জমাট রক্ষণ আর সীমিত রক্ষণ স্বত্তেও ম্যাচটাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অস্বস্তিকর করে রেখেছিল পানামা। শেষ পর্যন্ত সেই অচলাবস্থা ভাঙলেন জুড বেলিংহ্যাম। এক গোল, এক অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে ২-০ জয়ে গ্রুপসেরা করলেন তিনি।
গ্রুপ ‘এল’-এর শেষ ম্যাচে পানামাকে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেষ করেছে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়। ঘানা ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হলেও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে। পানামা ৩ ম্যাচে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে।
আগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় টমাস টুখেল একাদশে পাঁচ পরিবর্তন এনেছিলেন। রিস জেমস চোটের কারণে ছিলেন না। ডেকলান রাইসকে বিশ্রাম দিয়ে মাঝমাঠে আনা হয় মরগান রজার্সকে। মার্কাস রাশফোর্ড আসেন আক্রমণে, বুকায়ো সাকাও শুরু করেন। নিয়মিত একাদশের বাইরে কয়েকজনকে পরীক্ষা করাই ছিল ইংল্যান্ড কোচের পরিকল্পনার অংশ।
কাগজে-কলমে পানামা ছিল গ্রুপের দুর্বলতম দল। কিন্তু মাঠে তারা সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। থমাস ক্রিস্টিয়ানসেনের দল ঘন রক্ষণ, মাঝমাঠে চাপ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ দিয়ে ইংল্যান্ডের জায়গা কমিয়ে দেয়। তাদের বড় সমস্যা ছিল আক্রমণে ধার না থাকা। রক্ষণে শৃঙ্খলা থাকলেও শেষ তৃতীয়াংশে যথেষ্ট মান তৈরি করতে পারেনি পানামা।
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড বল দখলে রাখলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। রাশফোর্ড কয়েকবার চেষ্টা করলেও গোলের দেখা পাননি। অন্য প্রান্তে পানামার হোসে রদ্রিগেজের শট ঠেকাতে হয় জর্ডান পিকফোর্ডকে। ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল, কিন্তু ছন্দ ছিল না।
বিরতির পরও শুরুতে ম্যাচের ছবি খুব বদলায়নি। পানামা একইভাবে ইংল্যান্ডকে অস্বস্তিতে রাখছিল। তখনই এগিয়ে এলেন বেলিংহ্যাম। ৬২ মিনিটে সাকার কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বুদ্ধিদীপ্তভাবে বাঁ পা বাড়িয়ে বল জালে পাঠান তিনি। সেই গোলেই ম্যাচের দরজা খুলে যায় ইংল্যান্ডের জন্য।
পাঁচ মিনিট পর বেলিংহ্যাম আবারও কেন্দ্রীয় চরিত্র। এবার তিনি গোল করলেন না, করালেন। তার ক্রস থেকে হ্যারি কেইন হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল এনে দেন দলকে।
গোলটি কেইনের জন্যও ইতিহাসের। বিশ্বকাপে এটি তার ১১তম গোল। তাতে গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন তিনি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাই ইংল্যান্ড শুধু জয়ই পেল না, পেল আরেকটি ব্যক্তিগত ইতিহাসও।
দুই গোলের পর ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পানামা চেষ্টা করলেও ম্যাচে ফেরার মতো ধার দেখাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে টুখেলের দল।
পরিসংখ্যানেও ইংল্যান্ডের আধিপত্য স্পষ্ট। বল দখল, পাস, প্রতিপক্ষ অর্ধে উপস্থিতি সব দিকেই এগিয়ে ছিল তারা। তবে সেই আধিপত্যের তুলনায় প্রথমার্ধে সুযোগ তৈরি কম হওয়া টুখেলের জন্য ভাবনার জায়গা হয়ে থাকবে।
পানামার জন্য বিশ্বকাপ শেষ হলো জয়হীনভাবে। ২০১৮ বিশ্বকাপেও তারা জয় পায়নি, এবারও সেই অপেক্ষা শেষ হলো না। শুধু জয় নয়, এবারের গ্রুপ পর্বে গোলের দেখাও পায়নি তারা। তবে ফলের চেয়ে লড়াইয়ে তারা কিছুটা গর্ব খুঁজতে পারে। ইংল্যান্ডকে অন্তত এক ঘণ্টা আটকে রেখেছিল তারা।
ইংল্যান্ডের জন্য বড় স্বস্তি, গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়া। তবে আরও বড় স্বস্তি বেলিংহ্যামের ফর্ম। দল যখন ছন্দহীন, তখন তিনিই দিক দেখিয়েছেন। গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন, মাঝমাঠে খেলাটার গতি ঠিক করেছেন। পানামার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের কম্পাস ছিলেন তিনিই।
নকআউটে ইংল্যান্ডের সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন হবে। সেখানে শুধু বল দখল বা পাসের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। দরকার হবে গতি, সৃজনশীলতা এবং সিদ্ধান্তে ধার। পানামা ম্যাচে সেসব সবসময় দেখা যায়নি। তবে বেলিংহ্যাম থাকলে ইংল্যান্ড জানে, কঠিন মুহূর্তে পথ দেখানোর মতো একজন তাদের আছে।






