পেনাল্টি মিসের পরই দুর্দান্ত গোলে ইতিহাস গড়লেন মেসি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
পেনাল্টি মিসের পরই দুর্দান্ত গোলে ইতিহাস গড়লেন মেসি
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

পেনাল্টি মিসের হতাশা বেশিক্ষণ থাকতে দিলেন না লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে প্রথমে স্পটকিক থেকে গোলের সুযোগ হারালেও ৩৮ মিনিটে গোল করে ইতিহাস গড়লেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন মেসি।

Advertisement

ম্যাচের শুরুতেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বক্সে লাউতারো মার্তিনেস ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন রেফারি আমিন ওমর। বলের পাশে দাঁড়ান মেসি। কিন্তু বাঁ পায়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পেনাল্টি মিস করে ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করেন তিনি।

তবে সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হলো না। ৩৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার দারুণ এক আক্রমণ থেকে এল ঐতিহাসিক গোল। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস এনজো ফার্নান্দেস ছেড়ে দেন, আর পেছন থেকে জায়গা বুঝে এসে মেসি প্রথম পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের কিছু করার ছিল না।

গোলটির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন অধ্যায় লিখলেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই গোল তাকে এককভাবে শীর্ষে তুলে দিল।

মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। ২০২২ সালে অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। এবার ২০২৬ সালে এসে গোলের রেকর্ডও নিজের করে নিলেন।

এই গোলের নাটকীয়তা আরও বেড়েছে পেনাল্টি মিসের কারণে। কয়েক মিনিট আগেই মেসি সুযোগ হারিয়েছিলেন। সেই মিস তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিসংখ্যানে ঠেলে দিয়েছিল—২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬, টানা তিন বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস। কিন্তু একই ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে গোল করে তিনি সেই হতাশাকে ইতিহাসে বদলে দিলেন।

আর্জেন্টিনার জন্যও গোলটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রিয়া শুরু থেকেই প্রেসিং করে আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। পেনাল্টি মিসের পর ম্যাচ আরও চাপের হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু মেসির গোল আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেয় এবং গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পথ খুলে দেয়।

পেনাল্টি মিসের পর অনেকেই ভাবছিলেন, রেকর্ডের চাপ কি মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছে? ৩৮ মিনিটের গোল সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে রইল। মেসি আবারও দেখালেন, সুযোগ হারালেও ইতিহাস তাঁকে ছাড়ে না। বরং কখনো কখনো ইতিহাস ফিরেই আসে তাঁর বাঁ পায়ের কাছে।