হতে পারে বজ্রঝড়, ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ বিলম্বের শঙ্কা

বিশ্বকাপে আজ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরের বড় আলোচনা আবহাওয়া। ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় ম্যাচে বিলম্ব বা সাময়িক বিরতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা ও স্থানীয় আয়োজকেরা।
গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে আজ ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হওয়ার কথা ফ্রান্স ও ইরাকের। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সময় তখন সোমবার রাত ৩টা। কিন্তু ম্যাচের সময়ের কাছাকাছি বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় দর্শকদের গ্যালারি থেকে সরিয়ে মূল চলাচলপথ বা জরুরি আশ্রয়স্থলে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়ায় সন্ধ্যার দিকে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ও ৭টার দিকে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। রাত ৯টার দিকেও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ম্যাচ শুরু হলেও আবহাওয়া খারাপ হলে খেলা থেমে যেতে পারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি ফিলাডেলফিয়া জানিয়েছে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে খেলা বন্ধ রাখা হবে। এমন পরিস্থিতিতে দর্শকদের গ্যালারি থেকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া হবে।
খেলা বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে আবার শুরু করা যাবে না। বজ্রপাতহীন ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আবার বজ্রপাত হলে নতুন করে ৩০ মিনিটের হিসাব শুরু হবে। ফলে একাধিক বজ্রপাত হলে ম্যাচ অনেকক্ষণ বিলম্বিত হতে পারে। তবে স্থানীয় আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে দীর্ঘ বিরতি হলেও ম্যাচটি সোমবারই শেষ করার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
ফিলাডেলফিয়া সকার ২০২৬-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা লরেন লামব্রুগো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে দর্শকদের মূল চলাচলপথ বা জরুরি আশ্রয়স্থলে নেওয়া হবে। নিরাপদ মনে না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাঠে ফেরানো হবে না।
এবারের বিশ্বকাপে আবহাওয়া একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে গরম, আর্দ্রতা, বজ্রঝড় ও বজ্রপাত-সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল আয়োজকেরা। এখন পর্যন্ত মূল বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ বড়ভাবে আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও টুর্নামেন্টের আগে ইংল্যান্ড-কোস্টারিকার প্রস্তুতি ম্যাচ ঝড়ের কারণে বিলম্বিত হয়েছিল।
গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ম্যাচ আবহাওয়ার কারণে থেমেছিল বা বিলম্বিত হয়েছিল। তাই ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের আগে ফিফা ঝুঁকি নিতে চাইছে না। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাঠের হিসেবে ম্যাচটিতে ফ্রান্স বড় ফেভারিট। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করেছেন, ফ্রান্সের আক্রমণও ছন্দে আছে। অন্যদিকে ইরাক প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে। তাই তাদের জন্য এই ম্যাচ কঠিন পরীক্ষা।
তবে আবহাওয়া ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে। খেলা থেমে গেলে ছন্দ ভেঙে যায়, খেলোয়াড়দের শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়, কোচেরা নতুন নির্দেশনা দেওয়ার সময় পান। অনেক সময় ফেভারিট দলের এগিয়ে যাওয়ার গতি থেমে যায়, আর অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। তাই বজ্রঝড় শুধু নিরাপত্তা নয়, কৌশলগত দিক থেকেও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্রান্সের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কিন্তু বিলম্ব বা বারবার বিরতি হলে সেই পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। ইরাকের জন্যও এটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করবে। তারা যদি শুরুতে রক্ষণ ধরে রাখতে পারে এবং ম্যাচে বারবার বিরতি আসে, তাহলে ফ্রান্সের আক্রমণের ছন্দ ভাঙার সুযোগ পেতে পারে।
ফিলাডেলফিয়ার আকাশ তাই আজ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের বড় চরিত্র হতে পারে। মাঠে এমবাপেদের ফ্রান্স ফেভারিট, কিন্তু ম্যাচ ঠিক সময়ে শেষ হবে কি না, সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। বজ্রঝড় এলে ফিফার নীতি পরিষ্কার: আগে নিরাপত্তা, তারপর ফুটবল।







