নানির বার্তা দেখে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস

জাপানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের এক মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান এক টিভি অনুষ্ঠানে তার নানির ভিডিও বার্তা দেখে কেঁদে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণের বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস। গ্রুপ পর্বে গোল করে দলকে নকআউটে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে সাক্ষাৎকারে ফুটবল নয়, পরিবারের কথাই তাকে বেশি আবেগী করে তোলে।
অনুষ্ঠানে ভিনিসিয়ুসকে তার নানির একটি ভিডিও বার্তা দেখানো হয়। সেই বার্তায় নাতির ছোটবেলার কথা বলেন তার নানি। ভিনিসিয়ুস পরে নিজেও জানান, তার জীবনে নানির ভূমিকা কতটা গভীর। ছোটবেলায় বাবা দূরে থাকতেন, তাই মা, ভাইবোন ও নানির সঙ্গেই বড় হয়েছেন তিনি। ঘর ছোট ছিল, অনেক সময় নানির কাছেই ঘুমাতেন।
নানির কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় ভিনিসিয়ুসের। তিনি বলেন, ‘নানি আমার জীবনের খুব বিশেষ একজন মানুষ।’ পরিবার তার স্বপ্ন পূরণের জন্য কতটা ত্যাগ করেছে, সেটিও স্মরণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তার কথায়, ‘তাকে খুশি দেখতে পারার দাম নেই।’
আবেগী মুহূর্তের পর ফুটবল নিয়েও কথা বলেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার কথাও উঠে আসে তার কথায়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ষষ্ঠ তারকার অপেক্ষা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ব্রাজিলের ওপর চাপও তত বাড়ছে।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘ষষ্ঠ তারকা আসতে দেরি হচ্ছে।’ তবে বর্তমান প্রজন্ম ব্রাজিলকে আবার শীর্ষে নিতে কঠোর পরিশ্রম করছে বলেও জানান তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক কিছু শিখেছে দলটি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা, শান্তি ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন বলেও মনে করেন ভিনিসিয়ুস।
ব্রাজিল দলে অভিজ্ঞদের উপস্থিতিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। ভিনিসিয়ুসের মতে, নেইমার, কাসেমিরো, আলেক্স সান্দ্রো, দানিলো ও মারকিনিয়োসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা তরুণদের অনেক স্বাধীনতা দেন। তাদের পাশে এন্দ্রিক ও রায়ানের মতো নতুন প্রজন্মও উঠে আসছে।
মাঠের বাইরের লড়াই নিয়েও কথা বলেন ভিনিসিয়ুস। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানকে তিনি ফুটবলের অর্জনের চেয়েও বড় বলে মনে করেন। তার ভাষায়, ‘মাঠের বাইরের অর্জনগুলো আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ কারণ এসব কাজ আরও বেশি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।
ভিনিসিয়ুস চান, পরের প্রজন্ম যেন একই কষ্টের মধ্য দিয়ে না যায়। তার সাত বছরের ছোট ভাই আছে, সে যেন বর্ণবাদের শিকার না হয়, সেটাই তার আশা। মাঠে বড় কিছু জিততে চান তিনি, তবে একই সঙ্গে এমন তরুণ কৃষ্ণাঙ্গদেরও অনুপ্রাণিত করতে চান, যাদের কণ্ঠস্বর তার মতো জোরালো নয়।
নিজের ফর্ম নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ভিনিসিয়ুস। বিশ্বকাপের আগে থেকেই তিনি বলেছিলেন, টেকনিক্যাল, শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজের সেরা অবস্থায় আছেন। মৌসুমজুড়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, বড় চোট পাননি, রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচও মিস করেননি। তার কথায়, যত বেশি পরিশ্রম করা যায়, ভাগ্যও তত বেশি পাশে আসে।
গ্রুপ পর্বে হেডে গোল করা নিয়েও মজা করেছেন ভিনিসিয়ুস। সাধারণত হেডে খুব বেশি গোল করেন না তিনি। কোচের সঙ্গে নাকি এ নিয়ে তার বাজিও ছিল। এখন সেই বাজির উপহার বেছে নিতে হবে তাকে।
জাপানের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে তাই ভিনিসিয়ুস শুধু ব্রাজিলের বড় ভরসাই নন, আবেগ, পরিবার, লড়াই ও স্বপ্নেরও এক মুখ। মাঠে তিনি ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন টানছেন। মাঠের বাইরে তার গল্প মনে করিয়ে দিচ্ছে, তারকা হয়ে ওঠার পেছনে থাকে অনেক মানুষের ত্যাগ।






