শেষ ষোলোর দৌড়ে কারা এগিয়ে, জানাল অপ্টার সুপার কম্পিউটার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
শেষ ষোলোর দৌড়ে কারা এগিয়ে, জানাল অপ্টার সুপার কম্পিউটার
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ। ৭২ ম্যাচের লম্বা পথ পেরিয়ে টুর্নামেন্ট এখন নকআউটের মঞ্চে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে ১৬ দল বিদায় নিয়েছে, বাকি ৩২ দল এখন লড়ছে শেষ ষোলোয় ওঠার জন্য। এখানে আর ভুলের সুযোগ নেই। এক ম্যাচের ব্যর্থতাই শেষ করে দিতে পারে বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

Advertisement

এই নকআউট পর্ব সামনে রেখে নতুন হিসাব দিয়েছে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টা। তাদের সুপার কম্পিউটার পুরো নকআউট পর্ব ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এর প্রতিটি ম্যাচে কোন দল কতটা এগিয়ে, সেই সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেছে।

অপ্টার হিসাব বলছে, রাউন্ড অব ৩২-এ সবচেয়ে বড় ফেবারিট আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। লিওনেল স্কালোনির দলের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৮৭.৮৭ শতাংশ। এই রাউন্ডের কোনো ম্যাচেই আর কোনো দলের সম্ভাবনা এত বেশি নয়। তাই সংখ্যার বিচারে শেষ ষোলোয় ওঠার সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে আছে মেসির আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার পরেই আছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে দারুণ ছন্দ দেখানো কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা ৮৩.২৮ শতাংশ। খুব কাছেই স্পেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাদের সম্ভাবনা ৮৩.১৪ শতাংশ। অপ্টার সিমুলেশন তাই ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেনকে শেষ ষোলোর পথে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রাখছে।

ইংল্যান্ড ও জার্মানির সম্ভাবনাও বেশ উঁচু। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৮২.২৫ শতাংশ। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির সম্ভাবনা ৮০.৪৯ শতাংশ। দুই দলই নিজেদের ম্যাচে ফেবারিট, যদিও নকআউটের বাস্তবতা সব সময় পরিসংখ্যান মেনে চলে না।

সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রও শেষ ষোলোর দৌড়ে শক্ত অবস্থানে আছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৭৮.৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে ঘানার বিপক্ষে কলম্বিয়ার সম্ভাবনা ৭৪.৫৮ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকার দলটি তাই পরের রাউন্ডে ওঠার ভালো সুযোগ নিয়েই মাঠে নামবে।

অপ্টার হিসেবে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
অপ্টার হিসেবে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

তবে সব ম্যাচে ব্যবধান এত বড় নয়। ব্রাজিল-জাপান ম্যাচকে অপ্টা তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও জাপানের বিপক্ষে তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৬৯.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ ব্রাজিল ফেবারিট, কিন্তু জাপানের চমকের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও লড়াইয়ের আভাস আছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা ৬৭.৩০ শতাংশ। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নরওয়ের সম্ভাবনা ৬৮.০৫ শতাংশ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে রাখা হয়েছে ৬৪.৯০ শতাংশ সম্ভাবনায়। এই তিন ম্যাচেই ফেবারিট আছে, কিন্তু ব্যবধান এমন নয় যে ফল আগেভাগে ধরে নেওয়া যায়।

আরও কাছাকাছি হিসাব এসেছে নেদারল্যান্ডস-মরক্কো এবং মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচে। মরক্কোর বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জয়ের সম্ভাবনা ৬০.৩২ শতাংশ। ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর সম্ভাবনা ৬০.১৯ শতাংশ। এই দুই ম্যাচে সামান্য ভুল, সেট পিস বা ব্যক্তিগত ঝলকই ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে।

সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে বেলজিয়াম-সেনেগাল এবং মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে। সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৫৬.৬৭ শতাংশ। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিশরের সম্ভাবনা ৫৪.৩৪ শতাংশ। অপ্টার মডেল বলছে, এই দুই ম্যাচে দুই দলের ব্যবধান খুবই কম।

তবে এই পূর্বাভাস শুধু সম্ভাবনার হিসাব। নকআউট ফুটবলে একটি ভুল পাস, একটি লাল কার্ড, একটি পেনাল্টি, একটি গোলরক্ষকের সেভ কিংবা কোনো তারকার এক মুহূর্তের জাদু পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই সুপার কম্পিউটার আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও জার্মানিকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখলেও মাঠের লড়াইতেই শেষ কথা লেখা হবে।

রাউন্ড অব ৩২ তাই শুধু ফেবারিটদের পরীক্ষা নয়, আন্ডারডগদের সুযোগও। সংখ্যার দৌড়ে কেউ এগিয়ে, কেউ পিছিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনো হিসাবই চূড়ান্ত নয়।