বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী নিম্নচাপ, ৩ বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে সৃষ্টি হওয়া মৌসুমী লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোর ওপরে বৃষ্টি শুরুর প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
পোস্টে তিনি লেখেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে সৃষ্টি হওয়া মৌসুমী লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পসমৃদ্ধ বাতাস বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে, যা দেশের আকাশে মেঘের সৃষ্টি করছে।
মোস্তফা কামাল পলাশ লেখেন, নিম্নচাপটির কারণে আজ রোববার (৫ জুলাই) থেকে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোর ওপরে বৃষ্টি শুরুর প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। আজ সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপরে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলো বিশেষ করে কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী জেলার উপরে মাঝারি থেকে ভারী মানের বৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। আজ রাত থেকে নিম্নচাপের প্রভাব দেশের মধ্যভাগের জেলাগুলো এবং আগামীকাল সোমবার (৬ জুলাই) দেশের উত্তর দিকের ৩টি বিভাগের ওপরে পরিলক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
৩ দিনের অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস
চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও ফেনী জেলায় মাঝারি থেকে ভারী এবং অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: এই দুই বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী মানের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ: এই বিভাগগুলোর বিশেষ করে মেঘালয় সীমান্তবর্তী জেলা ও উপজেলাগুলোতে প্রায় প্রতিদিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের আকাশে হালকা মেঘ থাকলেও লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প দেশের স্থলভাগে প্রবেশ করছে। ফলে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা অনেক বেশি রয়েছে।
গত ৩ থেকে ৫ দিন ধরে দেশের অধিকাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাতাসে থাকা অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বের হয়ে যেতে পারছে না। এর ফলে মানুষের শরীর থেকে ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারছে না, যা শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই কারণেই প্রকৃত তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দেশের মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম ও অস্বস্তি অনুভব করছেন।




