ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প

৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ বছরের শিশু উদ্ধার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ বছরের শিশু উদ্ধার
ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করতে কাজ করেছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের তিন দিন পার হয়ে গেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশাও ততটাই ফিকে হয়ে আসছে। তবে এই হতাশার মাঝে শনিবার (২৭ জুন) শেষ রাতের দিকে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর খবর। দেশের উত্তরাঞ্চলীয় কারাবাল্লেদা শহরের কংক্রিটের স্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল।

Advertisement

এই উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করেছেন দেশের অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই কঠিন সময়ে প্রতিটি জীবিত প্রাণ ভেনেজুয়েলার জন্য নতুন আশার উৎস।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে পুরো দেশ এখন লণ্ডভণ্ড। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়। এরপর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চরম অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।

যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাকে জীবিত উদ্ধারের ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। এই সময় পার হয়ে গেলে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

এল সালভাদর থেকে আসা এক উদ্ধারকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন যারা চাপা পড়ে আছেন, তারা হয়তো আর বেঁচে নেই। তবুও সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা এখনও কিছু মানুষকে জীবিত পাওয়ার আশা ছাড়িনি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের ধীরগতির উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য বিশ্ববাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সাহায্যসামগ্রী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিশাল সি-১৭ বিমান অবতরণের জন্য সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে আংশিকভাবে সচল করা হয়েছে এবং উপকূলের কাছে এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবাহিনীর জাহাজ।

লা গুয়াইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দারা মরিয়া হয়ে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন। মিয়ামি থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে আসা ক্রেগ ডেমিলন নামের এক অস্ট্রেলিয়ান দমকলকর্মী জানান, এখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও উত্তপ্ত, তবুও তারা আশা হারাচ্ছেন না।

জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সংখ্যা বিশাল হওয়ায় আগামীতে মৃতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে সেখানে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই চালাচ্ছেন।