ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প

৩২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিনের নবজাতক উদ্ধার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
৩২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিনের নবজাতক উদ্ধার
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নবজাতককে উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

চারিদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ, বাতাসে লাশের গন্ধ আর স্বজনহারা মানুষের আহাজারি। এর মাঝে নতুন করে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। বুধবারের (২৪ জুন) জোড়া ভূমিকম্পে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা এখন যেন এক মৃত্যুপুরী। তবে এই চরম হতাশা আর অন্ধকারের মধ্যেও এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা শহরে। ৩২ ঘণ্টা ধরে কংক্রিটের ভারী স্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ১৮ দিন বয়সি এক নবজাতককে।

Advertisement

শুক্রবার (২৬ জুন) উদ্ধারকর্মীরা তাদের অভিযান চালাচ্ছিল। একটা সময় তারা মাত্র ১৮ দিনের ওই নবজাতককে অক্ষত অবস্থায় জীবিত বের করতে সক্ষম হন। যখন শিশুটিকে বের করে তারা শূন্যে তুলে ধরেন, তখন উপস্থিত সবার চোখে ছিল আনন্দের জল। চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে আনন্দধ্বনি আর করতালিতে।

কাঁথায় মোড়ানো সেই এক চিলতে প্রাণকে অত্যন্ত সাবধানে একে অপরের হাতবদল করে পৌঁছে দেওয়া হয় তার বাবার কোলে।

তবে এখানেই শেষ হয়নি এই অলৌকিক ঘটনা। এর ঠিক ৯০ মিনিট পর একই স্থান থেকে শিশুটির মাকেও জীবিত টেনে বের করেন উদ্ধারকর্মীরা।

মুহূর্তটির ভিডিও ধারণ করেছেন আন্দ্রেয়িনা কিনতেরো নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মাকে চিকিৎসকরা বলেছেন—ভূমিকম্পের ঠিক মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে সন্তানকে শরীর দিয়ে ঢেকে রাখার কারণে রক্ষা পেয়েছে তার সন্তানের প্রাণ।

ভেনেজুয়েলার বিদায়ী নিকোলাস মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনায় এক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুর্যোগের মাঝেও এমন বেঁচে থাকার গল্পগুলো আমাদের জন্য আনন্দ বয়ে এনেছে।

শুধু এই শিশুই নয়, দুর্যোগের মাঝে এমন আরও অনেক বেঁচে থাকার গল্প রয়েছে। অন্য একটি ফুটেজে দেখা গেছে, লা গুয়াইরায় নিজের অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ভেঙে পড়ার পর ২৪ ঘণ্টা ধরে আটকে থাকা ৪ বছর বয়সি আরেক শিশুকে উদ্ধার করা হচ্ছে। পরে তার বাবা ও মাকেও ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করে এনে তাদের ছেলের সঙ্গে পুনর্মিলন করিয়ে দেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা।

বিজ্ঞানীদের ভাষায় দুর্যোগকে বলা হচ্ছে ‘ডাবলেট’ বা জোড়া ভূমিকম্প। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প পরপর আঘাত হানার ফলে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে ২৫০-এরও বেশি বহুতল ভবন। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে হাজার হাজার মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়েছেন।

জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বা নির্ধারিত সময়টুকু দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অথচ এখনও এ ঘটনায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে শনিবার (২৭ জুন) ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হজিরি ৪৩০ জনে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩ হাজার ২৩৮ জন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।