সৌদি আরবে হুতির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, চার বছরের যুদ্ধবিরতি শেষ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে গত চার বছর ধরে বজায় থাকা যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে গেল। ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইয়াহিয়া সারে বলেন, হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশসীমায় সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি ও পর্যটন অঞ্চল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে সৌদির বহু নাগরিক এই অঞ্চলে যাতায়াত করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোতে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এরপর থেকে সৌদির ওপর হুতিদের এটি প্রথম বড় ধরনের হামলা।
সোমবারের এই হামলার ফলে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ইরান সংকটের এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর সৌদির পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইরানি হামলা কমে এসেছিল। তবে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হুতিদের সঙ্গে এই নতুন সংঘাত সৌদির তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে সোমবার উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা অভিযোগ করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের নিয়ন্ত্রিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতিরা একে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সানার ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত যেকোনো বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেয়।
অন্যদিকে, রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এই সানা বিমানবন্দর হামলার দায় স্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আসা একটি ইরানি বিমানকে অবতরণ করা থেকে রুখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
ইয়েমেন সরকার হুতিদের এই উসকানির জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে এবং দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী যেকোনো বৈরী বিমানকে সব উপায়ে ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, ওই ইরানি বিমানটি সানা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে। সেখানে বিমানটিকে আটকানোর কোনো চেষ্টা করা হয়েছিল কি না তা জানা যায়নি।
এদিকে, হুতিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একটি বিমানকে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যের মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিমানের ক্রু ও কর্মীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ ও বহিরাগত শক্তির প্রক্সি যুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে হুতিদের দমনে সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের পর সেখানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়। গত বছরের শেষের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থানে সৌদি জোটের মধ্যে ফাটল ধরে এবং সহিংসতা নতুন করে তীব্র হয়। এত কিছুর পরও ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিটি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ ও ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যেও টিকে ছিল।




