হামাসের ঘোষণায় গাজা শান্তি বোর্ডের প্রতিক্রিয়া

গাজায় দীর্ঘ দুই দশকের শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জরুরি প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গাজায় বেসামরিক শাসন চালু এবং ইসরায়েলের বর্বর হামলা থামানোর উদ্দেশে সোমবার (৬ জুলাই) এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় তারা। হামাসের এই বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গাজাকেন্দ্রিক গঠিত আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি বোর্ড)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ন্ত্রিত এই বোর্ডটি জানিয়েছে, তারা হামাসের কেবল মুখের কথায় বিশ্বাসী নয়। বরং গাজার মাটিতে তারা হামাসের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।
গাজা শান্তি বোর্ড জানায়, গাজার জরুরি কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়ে হামাসের ঘোষণা আমাদের নজরে এসেছে। তবে চূড়ান্তভাবে আমাদের মূল্যায়ন কেবল কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে হবে না। গাজার সাধারণ মানুষের জরুরি ও মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে মাঠপর্যায়ে কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ বা কাজ নেওয়া হচ্ছে, আমরা সেটিই পর্যবেক্ষণ করব।
বিতর্কিত এই শান্তি বোর্ডে ফিলিস্তিনের কোনো প্রতিনিধি বা সদস্য রাখা হয়নি।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রশাসনিক ও সরকারি দায়িত্ব রূপান্তরের প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সম্পূর্ণ সুগম হলো।
গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি সই হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্পের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজার বেসামরিক প্রশাসনিক কাজ সচল রাখার জন্য এই এনসিএজি কমিটি গঠন করে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম স্পষ্ট করে বলেছেন, হামাস এই নতুন পদক্ষেপটি নিয়েছে যাতে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর গাজায় আগ্রাসন ও নিধন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো অজুহাত না থাকে। এই কমিটির শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত করতে হামাস সমস্ত সরকারি দায়দায়িত্ব ও ক্ষমতা তাদের হাতে বুঝিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই পিস বোর্ডের আচরণ বরাবরই পক্ষপাতদুষ্ট। গত অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন সেই শর্ত লঙ্ঘন করে চলেছে। গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের এই নিত্যদিনের বর্বরোচিত হামলা, ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও আহত করার ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে এই ‘বোর্ড অব পিস’-কে খুব কম সময়ই নিন্দা জানাতে বা মুখ খুলতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে হামাসের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটিকে তারা কতটা সততার সাথে মূল্যায়ন করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: আলজাজিরা




