‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’, আলী খামেনির জানাজায় ব্যানার হাতে ইরানিরা

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসল্লায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে তেহরানে।
সাবেক সর্বোচ্চ নেতার বিদায় এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসলামি ক্যালেন্ডারের মহররম মাস চলছে। শিয়া মতাদর্শে এই মাস শোক ও শাহাদাতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
রাজধানী তেহরানে খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া লাখো মানুষ তাদের নেতার হত্যার প্রতিশোধের দাবিতে ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিচ্ছেন। শোকাহতরা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ‘ইয়া লি-সারাত আল-হুসাইন’ লেখা পতাকাও বহন করছেন।
খামেনির শেষ বিদায়ের ছয় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার প্রথম দিনেই তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের রয়েছে বিশেষ প্রতীকী তাৎপর্য। ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। আর একই দিনকে শিয়া মতাদর্শের সর্বোচ্চ নেতার বিদায়যাত্রার সূচনার দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে ইরান।
তবে শোকের এই দিনেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুলে যায়নি অনেক ইরানি। তারা তাকে আলী খামেনির হত্যার জন্য দায়ী মনে করে। তাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় জড়ো হওয়া শোকাহতদের মধ্যে কয়েকজন একটি বড় লাল পতাকা বহন করেন, যার মাঝখানে সাদা অক্ষরে লেখা ছিল, ‘#ট্রাম্পকে হত্যা করো’।

অনেকের মতে, লাল রংটি খামেনির রক্তের প্রতীক। আর সাদা অক্ষরে লেখা ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর একদিন আগে, শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে’।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড মুসাল্লার মূল প্রাঙ্গণে লাল ব্যানার বহনকারী বহু শোকাহত মানুষ জড়ো হয়েছেন। ইরানে লাল পতাকা ও ব্যানার প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সমবেত জনতার একটি অংশকে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণে পবিত্র শহর কোমে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এ সময় তার বড় মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সি নাতনি, ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির স্ত্রী এবং শীর্ষ কর্মকর্তা ও নেতারা নিহত হন।





