মামদানির শাসনের ছয় মাসে নিউইয়র্কে অপরাধের হার সর্বনিম্ন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, যুক্তরাষ্ট্র
মামদানির শাসনের ছয় মাসে নিউইয়র্কে অপরাধের হার সর্বনিম্ন
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রকাশ করেন জোহরান মামদানি ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। ছবি: সংগৃহীত

মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের দূরদর্শী পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে অপরাধের হার নাটকীয়ভাবে কমেছে। রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ সময় পার করেছে এই মেগাসিটি। জোহরান মামদানির শাসনামলে নিউইয়র্কে বন্দুক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সর্বনিম্নে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন জোহরান মামদানি। মামদানি এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ যৌথভাবে এই তথ্য জানিয়েছেন।

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে শহরের সামগ্রিক অপরাধের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মামদানি বলেন, এনওয়াইপিডি বছরের প্রথম অর্ধেকের জন্য রেকর্ডকৃত ইতিহাসে সবচেয়ে কম গুলির ঘটনা, গুলিবিদ্ধ ভুক্তভোগী এবং হত্যাকাণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ বিভাগটি ১৯৯৪ সাল থেকে কমপস্ট্যাট প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধের তথ্য ট্র্যাক বা পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরজুড়ে বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বড় হ্রাস দেখা গেছে হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে। গত বছরের তুলনায় এই অপরাধের সংখ্যা এক ধাক্কায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। নিউইয়র্কের প্রশাসনিক অঞ্চলটি অপরাধ হ্রাসের ক্ষেত্রে পুরো শহরকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই অঞ্চলে সামগ্রিক অপরাধ কমেছে ১২ শতাংশ।

নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্পেকট্রাম নিউজ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান অপরাধের ক্ষেত্রেও বড় পতন দেখা গেছে। শহরে ডাকাতির ঘটনা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, বড় ধরনের চুরি (গ্র্যান্ড লার্সেনি) ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং সিঁধেল চুরি (বার্গলারি) ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া গাড়ি চুরির ঘটনা (গ্র্যান্ড লার্সেনি অটো) কমেছে ৯ দশীমক ৭ শতাংশ। তবে গুরুতর অপরাধমূলক হামলার (ফেলোনি অ্যাসল্ট) সংখ্যা গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, সাবওয়ে বা গণপরিবহনে ট্রানজিট অপরাধ কমেছে ০ দশমকি ৬ শতাংশ।

এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, এই ছয় মাসে এনবিএ ফাইনালস, কাছাকাছি হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং নিক্স-এর টিকার-টেপ প্যারেডের মতো বিশাল ও হাই-প্রোফাইল ইভেন্ট ছিল। সেই সঙ্গে নানা প্রতিবাদ, প্যারেড ও আতশবাজির অনুষ্ঠান সামলানোর পাশাপাশি পুলিশ এই ঐতিহাসিক জননিরাপত্তা নিশ্চিতের সাফল্য উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তার বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, বিভাগটি প্রধান অপরাধগুলো কমিয়ে আনা অব্যাহত রেখেছে। এটি কেবল কাগজের পৃষ্ঠায় থাকা কোনো কৌশলের কারণে ঘটেনি। তীব্র গরমের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এনওয়াইপিডির যে নারী ও পুরুষ কর্মীরা অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছেন, এটি তাদেরই অবদান।

মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে যে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার প্রশাসনের নেওয়া দৃষ্টিভঙ্গি বা পদ্ধতি সফলভাবে কাজ করছে। এই তথ্য নিউইয়র্কবাসীরা আমাদের সাবওয়েতে, আমাদের রাস্তায় এবং পাঁচটি বরোজুড়ে যা অনুভব করছেন তারই প্রতিফলন।