আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড ভাঙল ২০২৬ আসর

লিওনেল মেসি সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের আরেকটি অদ্ভুত গল্প তৈরি হয়েছে আত্মঘাতী গোল নিয়ে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আত্মঘাতী গোল হয়েছে ১৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
এর আগে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড ছিল ২০১৮ আসরে। রাশিয়া বিশ্বকাপে হয়েছিল ১২টি আত্মঘাতী গোল। তখনই সংখ্যাটি অস্বাভাবিক বেশি মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ আসর সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল।
শুক্রবার দুটি আত্মঘাতী গোল এই রেকর্ড নিশ্চিত করে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হানি নিজেদের জালে বল পাঠান। সেই গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালেও ৪-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় ওঠে মিসর।
হানির জন্য পরিসংখ্যানটি আরও অস্বস্তিকর। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচেও তার আত্মঘাতী গোল ছিল। ফলে এক বিশ্বকাপে দুটি আত্মঘাতী গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়ে গেলেন তিনি।
দিনের আরেক আত্মঘাতী গোল আসে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে যায়। শুরুতে গোলটি রোমেরোর নামে ধরা হলেও পরে বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণনা করা হয়। সেটিই আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে জিতিয়ে শেষ ষোলোয় তোলে।
এই বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের বড় সুবিধাভোগী যুক্তরাষ্ট্রও। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের দামিয়ান বোবাদিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেসের আত্মঘাতী গোল থেকে সুবিধা পেয়েছে তারা। এক বিশ্বকাপে দুটি আত্মঘাতী গোলের সুবিধা পাওয়া দল হিসেবে ২০১৪ সালের ফ্রান্সের পাশে এখন যুক্তরাষ্ট্র।
রেকর্ড বাড়ার বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপকে। দল ও ম্যাচ বাড়ায় এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও বেড়েছে। এর সঙ্গে বড় দলগুলোর চাপ, সেটপিস ও দ্রুত আক্রমণ সামলাতে গিয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর ভুলও ভূমিকা রেখেছে।
নকআউট পর্ব এখনও বাকি। তাই ১৪ সংখ্যাটিও শেষ নয়। বিশ্বকাপ এগোতে থাকলে আত্মঘাতী গোলের এই রেকর্ড আরও বড় হতে পারে।




