ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ পেছানো নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল ফিফা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময় বদল নিয়ে আলোচনা থাকলেও আপাতত নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে ম্যাচটি। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সময় খেলা শুরু হবে সোমবার রাত ২টায়।
এর আগে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচের সময় বদলের আলোচনা হয়েছিল। সেই ম্যাচের সময় বদলালে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচও এক ঘণ্টা পেছাতে পারত। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকেও এমন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে। তাই ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচও আপাতত স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা। সময় না বদলালে বাংলাদেশ সময়ও অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়া অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের অনেক জায়গায় তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা খেলোয়াড় এবং দর্শকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি এলাকাতেও গরমের সতর্কতা ছিল। তবে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের দিন ইস্ট রাদারফোর্ডে তুলনামূলক কম তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বিকেলে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার পূর্বাভাস আছে।
ফিফার নিয়মে শুধু গরমের কারণে ম্যাচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছানোর কোনো বাধ্যতামূলক নীতি নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী আয়োজকেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই গরম, ঝড় বা বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকলে ম্যাচের আগে চূড়ান্ত সম্প্রচারসূচি দেখে নেওয়া দর্শকদের জন্য জরুরি।
মাঠের লড়াইয়েও ব্রাজিলের সামনে সহজ পরীক্ষা নয়। শেষ ৩২-এ জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ দিকের গোল ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলেছে। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে।
আরেকটি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে সতর্ক করবে। নরওয়ের বিপক্ষে চার দেখায় এখনও জয় পায়নি ব্রাজিল। দুটি ড্র, দুটি হার। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল সেলেসাওরা।
রাফিনিয়া চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন, নেইমারও এখন খেলার মতো অবস্থায় আছেন। তবে লুকাস পাকেতার চোটে মাঝমাঠে ভাবতে হচ্ছে কার্লো আনচেলত্তিকে। নরওয়ের বিপক্ষে একাদশ ও কৌশল বাছাই তাই ব্রাজিল কোচের জন্য বড় সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে।
তাই সময় বদল না হলেও ব্রাজিলের পরীক্ষা কমছে না। আবহাওয়া, নরওয়ের ইতিহাস, হালান্ডের উপস্থিতি এবং নিজেদের চোট-সমস্যা মিলিয়ে শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানের সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলোর একটি হতে পারে।





