Advertisement

যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ন্যাটো, অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ন্যাটো, অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার
ন্যাটো জোটের পতাা ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করার অভিযোগ তুলেছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (১ আগস্ট) পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, ইউরোপজুড়ে সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা ন্যাটো হাতে নিয়েছে, তা মূলত জোটটির এক আগ্রাসী সামরিক জোটে পরিণত হওয়ার বাস্তব চিত্র।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ আনা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে ন্যাটোর পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলীয় নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সংযোগ আরও মজবুত করতে একটি বিস্তৃত জ্বালানি অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে নতুন পাইপলাইন তৈরি ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার আধুনিকায়ন করা হবে।

পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ন্যাটো তাদের কৌশলগত সামরিক রিজার্ভ নিশ্চিত করতে চায়। মূলত ইউরোপের সীমানা ছাড়িয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক বা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ।

প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানায়, ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে একই সূত্রে গাঁথার অজুহাত দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা নিয়মিতভাবে এই অঞ্চলে সদস্য দেশগুলোর অত্যাধুনিক সামরিক সম্পদ মোতায়েন করছে এবং সামরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শন করছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার ওপর শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে কোরিয়া উপদ্বীপের কাছে বিপজ্জনক সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে।

এছাড়া রিম অব দ্য প্যাসিফিকের (রিমপ্যাক) মতো বৃহৎ বহুজাতিক সামরিক মহড়াগুলোতে ন্যাটো সদস্যদের অংশগ্রহণকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাদের যুদ্ধক্ষেত্র তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখছে পিয়ংইয়ং।

দেশটি সতর্ক করেছে, সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং বিশ্বজুড়ে দ্রুত সামরিক অভিযান সহজ করার জন্য নেওয়া এসব পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে সবসময় উত্তর কোরিয়ার এই অভিযোগ খণ্ডন করা হয়েছে। সামরিক জোটটির দাবি, তাদের সব কার্যক্রম এবং সামরিক অবস্থান সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সব ধরনের বহিরাগত হুমকি প্রতিহত করাই ন্যাটোর মূল লক্ষ্য।

সূত্র: আনাদেোলু