বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহে তেলের দাম সর্বনিম্ন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে হামলা-পাল্টা হামলা আপাতত বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি মেলেছে। গত এক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন। ইরানে মার্কিন হামলা স্থগিত থাকা ও কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হওয়ায় দরপতনের এই চিত্র দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ০.৫৪ ডলার বা ০.৬ শতাংশ কমে ৮৭.৮২ ডলারে নেমেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.৬৬ ডলার বা ০.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১.৯৫ ডলারে। লেনদেনের শুরুতে উভয় তেল চুক্তির দামই ১ শতাংশের বেশি কমেছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারের এই স্থিতিশীলতার নেপথ্যে কাজ করেছে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ‘ভালো আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে এও বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে যে কোনো মুহূর্তে পুনরায় মার্কিন সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজির প্রধান বিশ্লেষক টনি সাইকামো বলেন, সামরিক উত্তেজনার মাঝে বিকল্প কূটনৈতিক পথ খুঁজে পাওয়ার যে সাময়িক স্বস্তি মিলেছে, তা তেলের বৈশ্বিক চাহিদার ওপর থেকে চাপ কমিয়েছে।
পাশাপাশি এটি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হুথি হামলার যে চরম উদ্বেগ ছিল, তাও কিছুটা প্রশমিত করেছে। তবে পুরো ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত পরিবর্তনশীল বলেও জানান তিনি।
আইআইবি ও আন্তর্জাতিক শিপিং উপাত্ত তুলে ধরে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বার্কলেজের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি প্রবাহ এখনও সাধারণ গতির চেয়ে ধীর। গত ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে এই কৌশলগত প্রণালিটি দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের দৈনিক মোট রপ্তানি ছিল ২৯ লাখ ব্যারেল, যা এর আগের সপ্তাহের দৈনিক ৫৯ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
এ ছাড়াও বাজার সংস্থা মারেক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও তেলের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে না বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হলো এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চাহিদার ব্যাপক পতন। ফলে সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও বিশ্বব্যাপী তেলের মূল্য কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে।
.png)






