দেশ ছাড়ছেন দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামি মামুন

দেশ ছাড়ছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং বিসিএস ২৭তম ব্যাচের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারের কর্মকর্তা জি এম মামুনুর রশিদ। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগের অফিস আদেশ অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) রাতের মধ্যে তার বাংলাদেশ ত্যাগের কথা রয়েছে। গত ৪ জুন ওই আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ মিশনের অডিটে অংশ নিতে তার বহির্গমনসংক্রান্ত সব কাগজপত্র ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি দেশত্যাগের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

রেল মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ সালে রেলওয়ের কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং রেল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুদকের মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর জাপানে তার দাপ্তরিক সফর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে সিএজির ১৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে শুধু তিনিই যেতে পারেননি। পরে দুদকের মামলা চলমান থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে তার পাসপোর্ট ফ্রিজ করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দুদক তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এখনও সেটির নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের উদ্দেশে দেশত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এফসি আর্মি পে-১ কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
অডিট ভবনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মিশনের অডিটের কাজে বার্মিংহামে যাওয়ার আড়ালে তিনি নিরাপদে দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদেশ সফরের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। একবার দেশ ছাড়তে পারলে তিনি আর ফিরবেন না।’
ওই কর্মকর্তা জানান, বার্মিংহামে জি এম মামুনুর রশিদের ছোট বোন থাকেন। তার অভিযোগ, অবৈধভাবে পাচার করা অর্থে সেখানে মামুনের ছোট বোনের নামে বাড়ি কেনা হয়েছে। তবে অর্থ পাচার বা বাড়ি কেনার বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে পারেনি।
যুক্তরাজ্য যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জি এম মামুনুর রশিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বার্মিংহামের বাংলাদেশ মিশনের অডিটের জন্য লন্ডন যাচ্ছি। দেশ ছেড়ে পালানোর কোনো কারণ নেই। আমার স্ত্রী-সন্তান সবাই বাংলাদেশে। আমি কেন বিদেশে পালিয়ে যাব?’
এর আগে জাপান সফর আটকে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি কর্মকর্তা হলেও সাধারণ নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় ওই ঘটনা ঘটে।’
জি এম মামুনুর রশিদ ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর এফসি আর্মি পে-১ কার্যালয়ে অর্থ নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০০৮ সালের ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের উপপরিচালক, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট একাডেমির (ফিমা) পরিচালক এবং এসএফসি (এয়ার) কার্যালয়ের যুগ্ম অর্থ নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জি এম মামুনুর রশিদের স্ত্রী সেরিনা আক্তার বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।




