Advertisement

বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যারা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যারা
রাষ্ট্রপতির বাসভবন। ছবি : সংগৃহীত

মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সবার দৃষ্টি, কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও গত দুই দিনে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে।

অতীতে বাইরে থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগে রাজনৈতিক নানা সংকটের মুখে পড়েছিল দল। তাই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ, সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, সম্ভাব্যদের তালিকা এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত।

সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, বাইরে থেকে নয়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি।

সূত্র আরও জানিয়েছে, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে অত্যন্ত সন্তর্পণে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সম্ভাব্য অনেকের নাম আলোচনায় আসে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় এসেছে।

আবার অতিসম্প্রতি এ আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও যুক্ত হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় আসে।

বিএনপি দলীয় ও এর বাইরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিকূলতাসহ নানা বিবেচনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির আলোচনায় পিছিয়ে পড়েছেন। গত দুই দিনে সেখানে জোরালো হয়ে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নতুন মুখের আলোচনার মধ্যে নানা বিবেচনায় দলের ভেতরের একটা অংশ মির্জা ফখরুল ইসলামকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে রাজনীতির বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলামের শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে তাকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ্য মনে করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলামকে ‘সেরা প্রার্থী’ বলে মন্তব্য করেন।

ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এক ফেসবুক পোস্টে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন অন্যদের চেয়ে যোগ্যতর ব্যক্তি, সেটি তুলে ধরেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে। সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। ফলে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতেই থাকবে।

সূত্র: প্রথম আলো