Advertisement

কুষ্টিয়ায় চলন্ত ট্রেনে দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করলেন টিকিট পরীক্ষক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় চলন্ত ট্রেনে দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করলেন টিকিট পরীক্ষক
ট্রেনটি আটকে রাখেন যাত্রীরা। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যায় পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার সময় দরজা পার হওয়াকে কেন্দ্র করে চলন্ত ট্রেনের ভেতরে দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছেন ট্রেনের ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (টিটিই)।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ট্রেন আটকে রাখেন।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত টিটিই মামুন পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও তার ছেলে সফিউল আওয়াল সুমন। তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন জানান, ছুরিকাহত দুজনের হাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালে আব্দুর রহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের ‘খ’ (এসি) বগিতে ওঠেন। আব্দুর রহিমের স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তারা বগির দরজার কাছে অবস্থান করছিলেন। মামুন নামের এক টিটিই এসে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানালে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত টিটিই তার কাছে থাকা একটি চাকু বের করে বাবা ও ছেলেকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহিম বলেন, আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ থাকায় আমরা এসি বগির দরজার কাছে দাঁড়িয়েছিলাম। টিটিই মামুন এসে আমাদের জোর করে ধাক্কা দেয়। আমার ছেলে প্রতিবাদ করলে টিটিই বড় একটা চাকু বের করে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপর টিটিই মামুন পালিয়ে যান। ট্রেনের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে যাত্রীরা আড়াই ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ায় আহত আব্দুর রহিমের আরেক ছেলে রবিউল আউয়াল পলাশকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ জানান, ট্রেনের কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতিয়ারা খাতুন বলেন, সম্ভবত দরজায় হাত লেগে বা চেপে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে লোকমুখে শুনেছি এক যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কে বা কারা এটি করেছে, তা এখনও নিশ্চিত নই। সাদা পোশাকে অনেকেই ট্রেনে থাকেন, হয়তো ভিড়ের মধ্যে মিশে গেছেন।

বিষয় :কুষ্টিয়া