রাবিতে ছাত্রদলে যোগ দিলে হল সুবিধার আশ্বাস, সভাপতির অস্বীকার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে সিট পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রদলে যোগদানের আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে।
গত ৯ জুন নবীন শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রলোভনমূলক এমন উন্মুক্ত বার্তা (মেসেজ) দেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ নেতা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল কর্মীর নাম তানিম রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
স্ক্রিনশট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৯ জুন ‘ঝিনাইদহ রাবি-৭৩’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমানের ফেসবুক আইডি থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল— ‘যদি কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী থাকো বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের হও, কিছু দিনের মধ্যে ফর্ম ছাড়বে, পূরণ করতে পারো। হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারো।’ বার্তাটি দেওয়ার পরপরই গ্রুপে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রুপের দুজন শিক্ষার্থী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, মেসেজটি তানিমই দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কিছুদিন পর মেসেজটি ডিলিট করে গ্রুপ থেকে লিভ নেন। ঘটনার বেশ কিছু স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তানিম রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি তো এমন কিছু জানি না। এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আমি নতুন শিক্ষার্থী। আমি এমনটা কেন করব? আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল। ফোনও হারিয়ে গিয়েছিল।’
আইডি হ্যাক হওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়েছিলাম। তবে কোনো জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করিনি।
প্রতিবেদকের যাচাইয়ে দেখা যায়, তানিম তার আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ২০ জুন। অথচ বিতর্কিত মেসেজটি পাঠানো হয়েছিল ৯ জুন। এমনকি ৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তার আইডি থেকে নিয়মিত পোস্ট ও অ্যাক্টিভিটি দেখা গেছে। পরবর্তীতে তানিম রহমান প্রতিবেদককে ফোন করে পুনরায় দাবি করেন, তিনি ওই মেসেঞ্জার গ্রুপটি চেনেনই না। একপর্যায়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আব্বা সাংবাদিক ও আমার চাচা আইনমন্ত্রী। এসব প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
পরবর্তীতে আইনমন্ত্রীর প্রসঙ্গ নিয়ে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি সুর বদলে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী আমার এলাকার লোক।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলকে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী অভিযোগটি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রভোস্ট বলতে পারবেন না যে আমরা হলের সিটের জন্য কখনো তদবির করেছি। তাছাড়া বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো ফর্ম ছাড়ারও নির্দেশনা নেই। সুতরাং এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই।’





