রাবি হল সংসদের ভিপির সিট বাতিল নিয়ে নাটকীয়তা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
রাবি হল সংসদের ভিপির সিট বাতিল নিয়ে নাটকীয়তা
নাঈম ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

হলের দপ্তর থেকে এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে আবাসিকতা বাতিল করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নাঈম ইসলামের। তবে এক দিন পেরোতেই মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হল প্রশাসন। এদিকে ছয় মাস আগে ছাত্রত্ব শেষ হলেও ২৪১ নম্বর কক্ষে থাকার অভিযোগ রয়েছে নাঈমের বিরুদ্ধে।

Advertisement

সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদ ভিপি নাঈম ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি গত বছর ১৬ অক্টোবর ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন।

হল প্রশাসন বলছে, হল ভিপি নাঈম ইসলাম হলে প্রায় সময়েই ঔদ্ধত্য আচরণ করেন। ছয় মাস আগে ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এতদিন হলে অবস্থান করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে গত ২৮ জুন হলে অবস্থান করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নিয়ম অনুযায়ী, মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষার পর একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১৫ দিন হলে অবস্থান করতে পারবেন। তবে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে হলে থাকতে পারবেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। তবে সেই নিয়ম ভেঙে ছয় মাস কোনো অনুমতি ছাড়াই হলের ২৪১ নম্বর কক্ষে থাকেন হল ভিপি।

তার এই অবস্থানের বিষয়কে অবৈধ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন আমীর হামজা নামে ওই হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের কর্মী। তার এই অভিযোগের পর হলের দপ্তর থেকে আমীর হামজার আর্থিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সিটের জন্য করা আবেদনপত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন নাঈম ইসলাম। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে সুবিধা নিতে এই আবেদন করেছেন আমীর হামজা।

পরে গত রোববার (২৮ জুন) ওই শিক্ষার্থী হল প্রাধ্যক্ষের কাছে এক আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগ জানান। এ বিষয়ে সোমবার (২৯ জুন) হল প্রশাসন একটি সভা করে হল ভিপির আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে হল সংসদের নেতাদের অনুরোধে আজ আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির আলী হল সংসদের ভিপি নাঈম ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী হল সংসদ বা রাকসুর প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তার ছাত্রত্ব শেষ হলেও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত হলে থাকার বৈধ অধিকার রয়েছে। সৈয়দ আমীর আলী হলের ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা আমার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দখলদারত্বের’ মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি বলেন, আমি হল অফিস থেকে জাহিদ নামে একজনের ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজনে ফরম দেখতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই, কোনো নোটিশ ছাড়াই ৪-৫ জন ছাত্রদল কর্মীকে গোপনে আবাসিকতা দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্ট কোনো নিয়ম না মেনে কেবল ‘দরিদ্রতা’র অজুহাতে এবং কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই ছাত্রদলের কর্মীদের গোপনে সিট দিয়েছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।

এ বিষয়ে সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হারুনর রশীদ বলেন, নাঈম আগেও হলের কর্মকর্তাদের থেকে তথ্য নিয়েছেন। এই বিষয়টি জানার পরে আমি নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করি, কিন্তু তিনি অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অছাত্রসুলভ আচরণ করেন। পরে আমরা হল প্রশাসন ও হাউজ টিউটদের সঙ্গে নিয়ে আমরা গতকাল তার আবাসিকতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু আজ হল সংসদের নেতারা অনুরোধ করেন বিষয়টি সমাধান করার। ফলে তাদের অনুরোধ সিদ্ধান্তটি স্থগিত করা হয়েছে।

ভিপির হলে অবস্থানের বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হারুনর রশীদ বলেন, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র প্রতিনিধিরা ছাত্রত্ব শেষ হলেও অনুমতি নিয়ে হলে থাকতে পারবেন। কিন্তু নাঈম কোনো আবেদন বা অনুমতি ছাড়াই হলে অবস্থান করতেন। পরে অভিযোগ আসতে শুরু করলে গত ২৮ জুন তিনি একটি আবেদন করে হলে থাকার অনুমতি চেয়েছেন।