পদোন্নতি পেলেন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকারী কর্নেল নওয়াজেশের মেয়ে নাশিদ

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের ১৯ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপ-মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সমমান) পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম নাশিদ নওয়াজেশ।
নাশিদ ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল নওয়াজেশ উদ্দিনের মেয়ে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রশাসন ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি পাওয়া আরও কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০২৪ সালের ২ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগকারী রিজার্ভে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি লিটন চন্দ্রের ভাই নারায়ণ চন্দ্র সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী কাজী মাসুদা সুলতানা এবং গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেত্রী রোনক সুফিয়া আফছারা রহমান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (রিক্রুটমেন্ট) রুলস-১৯৮১-এর আওতাভুক্ত বিধিমালার অধীনে নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের এই ১৯ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তারা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-৪ এর বেতন-ভাতা ও সুবিধা পাবেন। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অডিট অধিদপ্তর এবং নিয়ন্ত্রক মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিজিএ) কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
পদোন্নতি পাওয়া নাশিদ নওয়াজেশ ২৪তম বিসিএস (অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) ক্যাডারের কর্মকর্তা। পদোন্নতির আগে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে নাশিদ নওয়াজেশ সিজিএ কার্যালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ভারত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে মিশন অডিট ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।
নাশিদের বাবা কর্নেল নওয়াজেশ উদ্দিন ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টরের কমান্ডার। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে গঠিত সামরিক আদালতের বিচারে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা সেনানিবাসে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় কর্নেল নওয়াজেশ ছাড়াও ব্রিগেডিয়ার মহসিন উদ্দিন আহমেদ, কর্নেল এম. আবদুর রশিদসহ মোট ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।





