যবিপ্রবিতে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে মারামারি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বিশ্বকাপ খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনের সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জিমনেসিয়ামে ফুটবল খেলা প্রদর্শনকালীন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জিমনেসিয়ামের বাইরে অবস্থান নেন। এ সময় এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়াম থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারের কাছাকাছি গেলে তার ওপর হামলা করেন আগে থেকে বাইরে অবস্থান নেওয়া পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা মারধরের ভিডিও ধারণ করতে গেলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ ও সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলামকে মারধর করা হয়।
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাহাফিজসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এ হামলা করেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত মাহাফিজ বর্তমানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কিবরিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত মাহাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত আহাদ হোসেন সৈকত বলেন, ‘আপনারা টাকা খেয়ে হলুদ সাংবাদিকতা করেন। আমি কোনো সাংবাদিককে মারিনি।’
হামলার শিকার দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন বলেন, খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিডিও ধারণ করছিলাম। তার কিছুক্ষণ পরে হামলাকারীরা জিমনেসিয়ামের বাইরে অবস্থান নেন। সাইফুল্লাহ বাইরে বের হলে শহীদ মিনারের পাশে ৮-৯ জন তাকে মারধর করেন। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় হামলাকারীরা আমার দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী কিবরিয়া আমার পেটে সজোরে লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমার ওপর এমন হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ভুক্তভোগী ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি সাব্বির আহম্মেদ বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তারা ক্যামেরা দেখে আমার ওপর চড়াও হন। আমার কাধে বেশ কয়েকবার আঘাত করে পেছনে সরিয়ে দেন। বারবার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে আহাদ সৈকত নামে এক শিক্ষার্থী আমার ফোন কেঁড়ে নিতে আসেন এবং উগ্র আচরণ করেন।
ভুক্তভোগী আরেক সাংবাদিক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার দুই সহকর্মীর ওপর হামলা শুরু হলে আমি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করি। ঠিক তখনই দুজন আমার দিকে তেড়ে এসে ধমকের সুরে বলেন, ‘মোবাইল নামান, আমি ভাঙবো আপনার মোবাইল, জোকারি চলে এখানে?’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। বুধবার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের কাছে ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় যতগুলো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সবগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





