বরগুনায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়েছেন স্বামী

বরগুনার আমতলী উপজেলায় স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছেন স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
অজয়ের স্ত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, অজয় তার স্ত্রী সুপ্রিয়া রানীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমতলী থানায় অজয়কে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন সুপ্রিয়ার মা দীপালী রানী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে অজয়ের বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন।
অজয়ের স্ত্রীর স্বজনরা আরও দাবি করেন, আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বিমল ব্যাপারীর মেয়ে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে ২০১২ সালে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। তাদের ১১ বছর বয়সি এক কন্যা ও ১১ মাস বয়সি এক ছেলে রয়েছে।
তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে স্বামীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার স্ত্রী সুপ্রিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। সুপ্রিয়া মারধরের বিষয়টি মুঠোফোনে তার মা দীপালী রানীকে জানান। এর কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র তার শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া ফাঁস দিয়েছেন। এরপর স্বামী ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সুপ্রিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন।
পুলিশ জানায়, মৃত্যুর খবর জানার পর অজয় চন্দ্র ও তার স্বজনরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতে সুপ্রিয়ার মা দীপালী রানী বাদী হয়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নামে হত্যা মামলা করেন।
শুক্রবার সকালে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই দিন দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অজয় চন্দ্রের বোন রমা রানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুপ্রিয়া রানীর মেয়ে মিথিলা বলেন, বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা আমার মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন। আমি বিচার চাই।
মা দীপালী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জামাতা তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বর্ণিকার সঙ্গে পরকীয়া করত। আমার মেয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি অজয় চন্দ্র হাওলাদার, স্বর্ণিকা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, হত্যা মামলা হয়েছে। এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
.png)






