পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম নগরী

চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সকালে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকেই নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, কাজীর হাট, হালিশহর, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড ও আকমল আলী রোডসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট দেখা দেয়। ফলে অনেক চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে হেঁটে, কোথাও আবার বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
আকমল আলী রোড, মুরাদপুর ও চকবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকালের বৃষ্টিতে বহু ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে। এতে আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়িক মালামালেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই নগরী তলিয়ে যাচ্ছে, যার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত
জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসান ইমাম জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৭ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিস ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আমবাগান আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা (ইনচার্জ) বিজন রায় জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





