আর্জেন্টিনা-মিশর মুখোমুখি লড়াইয়ে কারা এগিয়ে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আর্জেন্টিনা-মিশর মুখোমুখি লড়াইয়ে কারা এগিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ সালাহর মিশর, যারা অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম নকআউট জয় পেয়েছে। আটলান্টা স্টেডিয়ামের এই ম্যাচের আগে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য পুরোপুরি আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে।

সিনিয়র পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ও মিশর এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে মাত্র দুবার। দুবারই জিতেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দেখা প্রায় এক শতক আগে, ১৯২৮ আমস্টারডাম অলিম্পিকের সেমিফাইনালে। সেই ম্যাচে মিশরকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। গোল করেছিলেন রবার্তো চেরো, মানুয়েল ফেরেইরা ও দোমিঙ্গো তারাসকোনে। পরে ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরে রুপা নিয়ে ফিরতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

দুই দলের দ্বিতীয় দেখা হয় অনেক পরে, ২০০৮ সালের ২৬ মার্চ, কায়রোর প্রীতি ম্যাচে। আলফিও বাসিলের অধীনে আর্জেন্টিনা জেতে ২-০ গোলে। গোল করেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসো। চোটের কারণে সেই ম্যাচে ছিলেন না লিওনেল মেসি।

সিনিয়র ফুটবলে ইতিহাস ছোট হলেও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দুই দলের দেখা হয়েছে বেশ কয়েকবার। ২০০১ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে নেস্তর পেকেরমানের আর্জেন্টিনা মিশরকে হারিয়েছিল ৭-০ গোলে। ২০০৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একই প্রতিপক্ষকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। সোনালি গোলে জয়সূচক গোল করেন ফার্নান্দো কাভেনাঘি।

২০০৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও মিশরকে হারায় আর্জেন্টিনা। সেই দলে ছিলেন তরুণ মেসি। ২-০ জয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন মেসি ও পাবলো জাবালেতা। ২০১১ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবার দেখা হয় দুই দলের। এরিক লামেলার দুটি পেনাল্টিতে ২-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। মিশরের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন মোহাম্মদ সালাহ।

সর্বশেষ দেখা ২০২১ টোকিও অলিম্পিকে। গ্রুপ পর্বে ফাকুন্দো মেদিনার গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেই ম্যাচ হারলেও পরের রাউন্ডে উঠেছিল মিশর।

সব মিলিয়ে সিনিয়র পর্যায়ের হিসাব বলছে, আর্জেন্টিনার জয় ২, ড্র ০, মিশরের জয় ০। বয়সভিত্তিক ও অলিম্পিক মিলিয়েও সাম্প্রতিক ইতিহাসে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রেকর্ড শক্তিশালী। তবে নকআউট ফুটবল শুধু অতীত দিয়ে চলে না।

আর্জেন্টিনা আগের রাউন্ডে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতলেও ম্যাচটি গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। অন্যদিকে মিশর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে পেনাল্টি শুটআউটে জয় পেয়েছে। তাই ক্লান্তি, ফিটনেস ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এই লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সালাহর মিশর জানে, আজ একটি ম্যাচ জিতলেই লেখা হবে নতুন ইতিহাস। আর আর্জেন্টিনা চাইবে মুখোমুখি লড়াইয়ের শতভাগ রেকর্ড ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে।