৮ মাসের শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যা, পালানোর সময় মা আটক

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আট মাস বয়সি এক শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা শ্রাবন্তীকে (২০) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার ৭ নম্বর চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম শাওন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ভাবকি এলাকার হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে শ্রাবন্তীর বিয়ে হয়। স্বজনদের দাবি, বিয়ের আগে থেকেই অন্য এক যুবকের সঙ্গে শ্রাবন্তীর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এর আগে কয়েকবার শ্রাবন্তী বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনেন।
স্বজনরা জানান, রোববার ভোর ৫টার দিকে শ্রাবন্তী তার ছেলে শাওনকে নিয়ে সবার অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সকাল হওয়ার পরও মা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরঘাটে শ্রাবন্তীর ব্যবহৃত স্যান্ডেল দেখতে পান এবং পানি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
এদিকে ঘটনার পর শ্রাবন্তী এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে মেলান্দহ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং শ্রাবন্তীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত শিশুর ফুপু সুমাইয়া বলেন, শনিবার রাতেও আমি আমার ভাতিজার সঙ্গে খেলেছি। আজ দেখছি ওর মা তাকে মেরে ফেলেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত নারীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।






