৬ বছরেও শেষ হয়নি পিরোজপুর শিশু পার্কের নির্মাণকাজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পিরোজপুর
৬ বছরেও শেষ হয়নি পিরোজপুর শিশু পার্কের নির্মাণকাজ
সামান্য কিছু অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পিরোজপুরে শিশুদের জন্য আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ছয় বছর আগে (২০২০ সাল) শুরু হয়েছিল শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ। দীর্ঘ এই সময়ে কেবল পাল্টেছে প্রকল্পের নাম, কিন্তু বাস্তবে কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি মেলেনি। সামান্য কিছু অবকাঠামো নির্মাণের পরই ১৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটির কাজ থমকে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পিরোজপুর পৌরসভা ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পায়। তবে শহরের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিশুদের জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র। এই শূন্যতা দূর করতে শহরতলীর মুক্তারকাঠী এলাকায় বলেশ্বর নদীর তীরে জেলা পরিষদের নিজস্ব জমিতে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘শেখ রাসেল শিশু পার্ক’ (বর্তমানে পিরোজপুর শিশু পার্ক) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে নিচু জমি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং সামান্য কিছু অবকাঠামোগত কাজ করা হলেও মূল পার্কের কাজ আজও শুরু করা যায়নি। ফলে দৃষ্টিনন্দন হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প এলাকাটি বর্তমানে অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্থানীয় সচেতন মহল ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় শিশুদের জন্য পরিকল্পিত এই বিনোদনকেন্দ্রটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করে পার্কটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

পিরোজপুর শহরের মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াছমিন আক্তার বলেন, পিরোজপুর একটি জেলা শহর হলেও এখানে একটিও ভালো শিশু পার্ক নেই। একটি পার্কের কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় ছয় থেকে সাত বছর আগে, কিন্তু এখনও তা শেষ হয়নি। আমাদের শিশুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমরা আর কত অপেক্ষা করব? একটি পার্কের কাজ শেষ হতে আর কত সময় লাগবে, কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই আমার প্রশ্ন।

শিশু শিক্ষার্থী ফাইয়াজ আল নাফিস বলে, শিশু পার্কটির কাজ দ্রুত শেষ হলে আমরা সেখানে গিয়ে খেলাধুলা করতে পারব। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি, যেন দ্রুত এই পার্কটির কাজ সম্পন্ন করা হয়।

শহরের সিআই পাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, শিশু পার্কের প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করা উচিত। শিশুদের বিনোদনের সুব্যবস্থা থাকলে তাদের মোবাইল আসক্তি কমবে এবং মেধার বিকাশ ঘটবে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মুক্তারকাঠী এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, এখানে শিশু পার্ক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুধু বালু দিয়ে জায়গাটা ভরাট করা হয়েছে এবং চারপাশের ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো কাজ করা হয়নি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি পড়ে আছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ওই অর্থে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ কিছু কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের মূল কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে পার্কটির দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

বিষয় :পিরোজপুর