মৌলভীবাজারের ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

মৌলভীবাজার জেলার ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অধিকাংশই এখন কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই ক্লিনিকগুলো। তবে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে চলমান তীব্র ওষুধ সংকটের কারণে জেলাটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও সাধারণ রোগের চিকিৎসাসহ নানা জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণ মানুষের জন্য অন্তত ২৭ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত এক বছর ধরে অধিকাংশ ক্লিনিকে কেবল প্যারাসিটামল এবং খাবার স্যালাইন ছাড়া আর কোনো ওষুধ মিলছে না। ফলে চিকিৎসার জন্য এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে হাজারো রোগীকে।
কমলগঞ্জের রহিমপুরের মোফাজ্জল হোসেন এবং আলীনগরের চা শ্রমিক ঝনক কৈরি ও সুমন কৈরি বলেন, আমরা চিকিৎসা নিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে সেখানে ওষুধ পাই না। ওষুধ না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষ হিসেবে বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় আসি, কিন্তু ওষুধ না থাকায় খালি হাতেই ফিরতে হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়া ও জাহানারা বেগম বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। দুই-তিন মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি। সরকারি ক্লিনিক থেকেও যদি ওষুধ না পাই, তাহলে আমরা কোথায় যাব?
শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর এলাকার বাসিন্দা রুজিনা বেগম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে কয়েক দিন গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছি। প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। গত চার দিন আগেও ক্লিনিকে গিয়ে কোনো ওষুধ পাইনি।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিনিউটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, বর্তমানে আমাদের ক্লিনিকে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকলে রোগীরা উপকৃত হতেন এবং সদর হাসপাতালের চাপও কিছুটা কমত। কিন্তু ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন।
মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওষুধের সংকট চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকে। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের অফিস থেকেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে শিগগির ওষুধের সংকট নিরসন হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট চলছে। আমাদের উপজেলায় আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন এক কার্টন আসে। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ না পাওয়ায় রোগীরা ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া আরও নানা সমস্যা রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সরাসরি আমাদের অধীনে নয়। এটি কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে। বাজেটগুলো সিএইচসিপিদের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এ জন্য আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা কষ্ট হয়। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের সাথে কথা বলেছি, তারা দ্রুত ওষুধ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন।




