ভিনিসিয়ুস কেন পেনাল্টি নেননি, জানালেন আনচেলত্তি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ভিনিসিয়ুস কেন পেনাল্টি নেননি, জানালেন আনচেলত্তি
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কার্লো আনচেলত্তি। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আলোচনায় এসেছে প্রথমার্ধের মিস পেনাল্টি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠে থাকার পরও স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। তার শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কেন ভিনিসিয়ুস নন, ব্রুনো পেনাল্টি নিলেন, সেই প্রশ্নে ইতালিয়ান কোচ বলেন, সিদ্ধান্তটি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।

আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমরা প্রতিপক্ষ ও নিজেদের খেলোয়াড়দের এক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছি। সেরা পেনাল্টি টেকার নেইমার, এরপর ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস, তারপর মার্তিনেল্লি।’

কিন্তু সমস্যা হলো, পেনাল্টি পাওয়ার সময় এই তালিকার প্রথম তিনজনই মাঠে ছিলেন না। নেইমার ছিলেন বেঞ্চে, ইগর থিয়াগো স্কোয়াডে থাকলেও কৌশলগত কারণে একাদশে ছিলেন না, আর রাফিনিয়া চোটের কারণে শুরু করতে পারেননি। ফলে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুনোকেই বেছে নেয় ব্রাজিল।

আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘আমরা ব্রুনো গিমারায়েসকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ আমাদের মনে হয়েছিল সে তখন মাঠের সেরা খেলোয়াড়।’

বিরতিতে আনচেলত্তির ছেলে ও সহকারী কোচ দাভিদে আনচেলত্তিও জানান, সম্ভাব্য পেনাল্টি টেকার নিয়ে সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগেই নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মাঠে মুহূর্তের আবেগে ব্রুনোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা।

তবে পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ব্রুনো মাঝারি উচ্চতায় শট নেন, নিয়ল্যান্ড সহজেই সেটি ঠেকিয়ে দেন। নকআউট ম্যাচে এমন সুযোগ হাতছাড়া করার মূল্য পরে চড়া দিতেই হয়েছে ব্রাজিলকে। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ম্যাচ চলে যায় নরওয়ের হাতে। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলেও সেটি শুধু ব্যবধান কমায়।

ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি না নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে সাতটি পেনাল্টি নিয়েছিলেন তিনি, যার পাঁচটি গোল হয়েছিল, দুটি মিস। ব্রাজিলের হয়েও ২০২৩ সালে গিনির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন ভিনি। তাই মাঠে তার উপস্থিতির পরও ব্রুনোর এগিয়ে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।