ব্রাজিলের কোচের দায়িত্বেই থাকতে চান আনচেলত্তি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্রাজিলের কোচের দায়িত্বেই থাকতে চান আনচেলত্তি
কার্লো আনচেলত্তি। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায় শুধু একটি ম্যাচের হতাশা নয়। এটি হয়তো একটি যুগেরও শেষ। নিউ জার্সিতে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ছিটকে যাওয়ার পর কার্লো আনচেলত্তি জানালেন, তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব ছাড়ছেন না বরং নতুন করে শুরু করতে চান।

আর্লিং হালান্ডের শেষ দিকের জোড়া গোলে নরওয়ে উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলেও সেটি ব্রাজিলের বিদায় ঠেকাতে পারেনি। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে আগেভাগে বিদায়। আর ২০০২ সালের পর ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে নকআউট ব্যর্থতার ধারাও আরও দীর্ঘ হলো।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তির কথায় হতাশা ছিল, তবে পালানোর সুর ছিল না। দুই মাস আগে চার বছরের চুক্তি বাড়ানো ইতালিয়ান কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ও তার সহকারী দল দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। তার ভাষায়, এই হারকে নতুন চক্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে ব্রাজিলকে।

আনচেলত্তি মনে করেন, ব্রাজিল হারার মতো খেলেনি। তবে নকআউট ফুটবলে ফলই শেষ কথা। তিনি খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন, একই সঙ্গে বলেছেন, হারের তিক্ততা মেনে নিয়ে ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।

ব্রাজিলের পুনর্গঠনের বড় জায়গা হিসেবে মাঝমাঠের কথাও বলেছেন আনচেলত্তি। তার মতে, ভবিষ্যতের কথা ভাবলে মাঝমাঠে নতুন মুখ দরকার। উচ্চমানের তরুণ খেলোয়াড়দের দলে আনতে হবে। কারণ এই বিদায়ের পর শুধু নেইমারই নন, কাসেমিরো ও ফাবিনিওদের মতো অভিজ্ঞদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

নেইমার এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রাজিলের হয়ে তার পথচলা শেষ। নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষে চোখের জলে ভেঙে পড়ে জানান, তিনি চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এখন সব শেষ। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বকাপ গল্প তাই শেষ হলো অপূর্ণতার ভার নিয়েই।

ব্রাজিলের হার আরও কষ্ট বাড়িয়েছে কারণ ম্যাচে তাদের সুযোগ ছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে পারেননি ব্রুনো গিমারায়েস। নরওয়ে গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়ল্যান্ড তার শট ঠেকিয়ে দেন। আনচেলত্তি পরে বলেন, পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম ঠিক করা হয়েছিল। তার মতে, রাফিনিয়া ও নেইমারের পর ব্রুনোই ছিলেন উপযুক্ত বিকল্প।

কিন্তু সেই পেনাল্টি মিস, এন্ডরিকের হাতছাড়া সুযোগ এবং শেষ দিকে হালান্ডের নির্মম ফিনিশিং মিলিয়েই ম্যাচের গল্প বদলে যায়। নরওয়ে সুযোগ কম পেলেও শেষ মুহূর্তে সেগুলো কাজে লাগায়। ব্রাজিল বল পায়ে বেশি সময় কাটালেও গোলের সামনে প্রয়োজনীয় ধার দেখাতে পারেনি।

আনচেলত্তির সামনে এখন কঠিন কাজ। নেইমার-পরবর্তী ব্রাজিলকে নতুন পরিচয় দিতে হবে তাকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এন্ডরিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ব্রুনো গিমারায়েসদের ঘিরে নতুন কাঠামো বানাতে হবে। কিন্তু শুধু নাম নয়, দরকার নকআউটের চাপ সামলানোর মানসিকতা।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। কিন্তু ২০০২ সালের পর থেকে তাদের গল্প হয়ে উঠেছে অপেক্ষা, হতাশা আর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের সামনে থেমে যাওয়ার পুনরাবৃত্তি। আনচেলত্তি এখন সেই ধারাটা ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, নেইমার-পরবর্তী নতুন চক্র ব্রাজিলকে সত্যিই কোথায় নিয়ে যেতে পারে।