অর্ধেক দামে কৃষিযন্ত্র, প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্নপূরণের হাট

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ময়মনসিংহ
অর্ধেক দামে কৃষিযন্ত্র, প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্নপূরণের হাট
পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট। ছবি: সংগৃহীত

কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের পক্ষে নতুন যন্ত্র কেনা সম্ভব হয় না। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমানো ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণে তারা পিছিয়ে থাকেন। এমন বাস্তবতায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গড়ে উঠেছে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের একটি ব্যতিক্রমী হাট। স্বল্প খরচে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ এখন প্রান্তিক কৃষকদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।

উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের মধুপুর বাজারের পাশে খোলা জায়গায় গড়ে ওঠা এই হাটে তুলনামূলক কম দামে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ধান কাটার মেশিন, থ্রেসার ও সেচযন্ত্রসহ বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম কেনাবেচা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো দিনে নয়, চাষাবাদের মৌসুমজুড়েই জমজমাট থাকে এই হাট। এখানে শুধু ঈশ্বরগঞ্জ নয়, জেলার নান্দাইল, ত্রিশাল, গৌরীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আসছেন। নতুন যন্ত্রের তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম দামে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।

৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় মিলছে কৃষিযন্ত্র

সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে সারি সারি কৃষি যন্ত্রপাতি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিক্রেতারা যন্ত্রের অবস্থা, ব্যবহারকাল এবং কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ক্রেতাদের বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন। ক্রেতারাও যন্ত্র চালিয়ে বা পরীক্ষা করে দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এখানে কৃষকেরা কম দামে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে যেমন আসছেন, তেমনি নিজের ব্যবহৃত পুরোনো যন্ত্রটি বিক্রিও করতে পারছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ব্যবসায়ীরা জানান, যন্ত্রপাতির ধরন ও অবস্থাভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় বিভিন্ন দরকারি কৃষিযন্ত্র। বড় কৃষক বা উদ্যোক্তারা নতুন মডেলের যন্ত্র কেনার পর পুরোনোগুলো বিক্রি করে দেন। আবার অনেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া যন্ত্র বিক্রি করলে, ব্যবসায়ীরা সেগুলো মেরামত ও সংস্কার করে এই হাটে কৃষকদের কাছে কম দামে বিক্রি করেন।

সময় ও খরচ বাঁচছে কৃষকের

হাটে আসা ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের উমানাথপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘নতুন একটি পাওয়ার টিলার কিনতে মোটা অঙ্কের টাকা লাগে। কিন্তু এখান থেকে ভালো মানের একটি ব্যবহৃত মেশিন অনেক কম দামে পেয়েছি। এতে চাষাবাদের খরচ অনেক কমবে।’

একই কথা জানালেন পাশের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি গ্রামের কৃষক মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে জমি চাষের জন্য অন্যের মেশিন ভাড়া নিতে হতো, সময়মতো পাওয়া যেত না। এবার এখান থেকে একটি ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার কিনেছি। এখন নিজের ইচ্ছামতো চাষ দিতে পারব, সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।’

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

হাটে যন্ত্র বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায় থেকে ভালো যন্ত্রগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কম দামে সংগ্রহ করি। এরপর এই বাজারে এনে বিক্রি করি। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছে। পরিচিতদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এখন দূর-দূরান্ত থেকেও কৃষকরা এখানে আসছেন।’

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, পুরোনো কৃষিযন্ত্রের এই বাজার শুধু কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। কম খরচে যন্ত্রের মালিকানা পাওয়ায় কৃষকরা আরও বেশি যান্ত্রিক চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষির আধুনিকায়নও ত্বরান্বিত হচ্ছে। তবে এই হাট থেকে যন্ত্র কেনার আগে কৃষকদের অবশ্যই মেকানিক্যাল কার্যক্ষমতা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিষয় :ময়মনসিংহ