গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২, লেবাননেও গোলাবর্ষণ অব্যাহত

গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলের একটি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৫ জুলাই) গাজা সিটির ওমর আল-মুখতার সড়কে একদল মানুষের ওপর বিমান হামলা চালানো হলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও গাজায় একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, গাজায় অবস্থানরত যেসব সশস্ত্র যোদ্ধা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে অথবা ২০২৩ সালের হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে হামাস বারবার অভিযোগ করে আসছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-নিযুক্ত শান্তি বোর্ডের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভও বলেছেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি উভয় পক্ষই বিভিন্ন সময়ে লঙ্ঘন করেছে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় অচলাবস্থা চলছে। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উভয় পক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আট মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় এক হাজার ৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই বেসামরিক নাগরিক। একই সময়ে নিহত হয়েছেন চারজন ইসরায়েলি সেনা। তবে হামাস তাদের যোদ্ধাদের হতাহতের পৃথক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।
দক্ষিণ লেবাননেও হামলা অব্যাহত
এদিকে, লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট জানান, দক্ষিণ লেববানের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় সর্বশেষ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এটি নাবাতিয়েহ শহরের আশপাশের পাহাড়ি ও উপশহর অঞ্চল, যেখানে যুদ্ধবিরতির আগেও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক তৎপরতা ছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই হামলায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, নতুন করে হামলার আশঙ্কায় লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
শুধু বিমান হামলাই নয়, রোববার দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বারাআশিত গ্রামেও গোলাবর্ষণ করা হয়। সেখানে গত কয়েক মাসে নিহত ব্যক্তিদের জন্য গণজানাজার আয়োজন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এতদিন পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের নিজ গ্রামে দাফন করতে পারেনি। রোববার দাফনের উদ্যোগ নেওয়ার সময় গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।





