খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের অংশগ্রহণ, বন্ধুরাষ্ট্রদের ছাড় ঘোষণা ইরানের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের অংশগ্রহণ, বন্ধুরাষ্ট্রদের ছাড় ঘোষণা ইরানের
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর এই উপস্থিতি ইরানের পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাসে সবসময় এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।

একই সময়ে সংকটের দিনে পাশে থাকা এমন বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে বিশেষ ছাড় বা সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। রোববার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা, শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানে এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের অনুগত আরব ভাইয়েরাও রয়েছেন। তাদের এই আগমন ইরানকে গভীরভাবে সম্মানিত করেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের ঢল নামে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে সার্ভিস ফি বা সেবা শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ইরানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংকটের সময়ে যেসব বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের পাশে ছিল, তারা এই ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বা সুবিধা পাবে।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ৬০ দিনের জন্য বিনামূল্যে এই প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী নিয়ম চালু হবে, তা নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়।

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে’ ইরানি রাষ্ট্রদূত ফাজলি জানান, হরমুজ প্রণালি মূলত ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। তাই ওমান সরকারের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে এই জলপথে নতুন নিয়মকানুন কার্যকর করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই ফি কোনো সাধারণ কর নয়। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নৌযান চলাচল কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। একই সঙ্গে শত শত জাহাজের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা মোকাবিলা করার খরচ হিসেবে এই সার্ভিস ফি নেওয়া হবে। তবে সব দেশের জন্য নিয়ম এক হলেও কঠিন দিনে ইরানের পাশে থাকা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে তেহরান সবসময় বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে।’