ফিলিস্তিনি ৯ বন্দিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফিলিস্তিনি ৯ বন্দিকে মুক্তি দিল ইসরায়েল
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা ও বেইটুনিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি ওফার কারাগার। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বিশেষ মধ্যস্থতায় গাজা থেকে আটক ৯ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৫ জুলাই) করম আবু সালেম সীমান্ত থেকে তাদের উদ্ধার করে আইসিআরসি। পরে তাদের গাজার আল-আকসা মারটার্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তরা যাতে দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করেছে সংস্থাটি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

এক বিবৃতিতে আইসিআরসি জানিয়েছে, এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারা একই মানবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে গাজায় নিরাপদে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি কারাগারে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অতীতে আসা অনেক বন্দির জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এদের বড় একটি অংশকে ২০০২ সালের ইসরায়েলি ‘অবৈধ যোদ্ধা’ আইনের বিতর্কিত ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ ছাড়া যে কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে। কেবল কোনো ব্যক্তি হামাসের মতো ‘অবৈধ’ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত—এমন সন্দেহের ভিত্তিতে এই আইনের আওতায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিআরসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার ও কারাগারে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দেখা করার কোনো অনুমতি তারা পাচ্ছে না। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের সেখানে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। ফলে বন্দিশালায় থাকা ফিলিস্তিনিদের বর্তমান অবস্থা ও তারা ঠিক কোথায় আছেন, সেই তথ্য জানতে এবং তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে আবারও জোর দাবি জানিয়েছে রেড ক্রস।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সব পক্ষের উচিত বন্দিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, কারাগারের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া।

রেড ক্রস আরও জানিয়েছে, বন্দিশালায় থাকা আত্মীয়-স্বজনদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার। তারা এখনও তাদের প্রিয়জনদের কোনো তথ্যের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে যেন আবারও দেখা করার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়, সেজন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে আইসিআরসি।