আজতেকার নাটকে মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আজতেকার নাটকে মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড
ম্যাচে জোড়া গোল করেন বেলিংহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

আজতেকায় রাতটা ছিল মেক্সিকোর আবেগের, কিন্তু শেষ হাসি ইংল্যান্ডের। ঘরের মাঠে সমর্থকদের গর্জন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ আর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পরও শেষ ষোলোতেই থামল মেক্সিকোর বিশ্বকাপ। ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরুটা ছিল মেক্সিকোর। বলের দখল, চাপ, আক্রমণের তীব্রতা—সব জায়গাতেই এগিয়ে ছিল হাভিয়ের আগিরের দল। ইংল্যান্ড প্রথম ৩৫ মিনিটে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। কিন্তু নকআউট ফুটবলে মুহূর্তই সব বদলে দেয়। আর সেই মুহূর্তের নাম জুড বেলিংহ্যাম।

৩৫ মিনিটে বুকায়ো সাকার পাস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। দুই মিনিট পর হ্যারি কেইনের পাস থেকে আবারও জালে বল পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। মেক্সিকোর দাপুটে শুরু হঠাৎই ২-০ পিছিয়ে পড়ার ধাক্কায় বদলে যায়।

তবে মেক্সিকো ভেঙে পড়েনি। ৪১ মিনিটে জুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে আজতেকাকে আবার জাগিয়ে তোলেন। বিরতির আগে রাউল হিমেনেসের সুযোগ, সেজার মনতেসের প্রচেষ্টা এবং মেক্সিকোর টানা চাপ ইংল্যান্ডকে অস্বস্তিতে ফেলে। সেই সময় জর্ডান পিকফোর্ড কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে ম্যাচের গল্প অন্য রকমও হতে পারত।

দ্বিতীয়ার্ধে নাটক আরও বাড়ে। ৫৩ মিনিটে ভয়ংকর ট্যাকলের জন্য লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের জারেল কোয়ানসাহ। ১০ জনের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তখন মেক্সিকোর সামনে ফেরার বড় সুযোগ। কিন্তু চার মিনিট পরই রাউল রাঙ্গেল অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। ৫৯ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন।

তবু মেক্সিকো থামেনি। ৬৮ মিনিটে কেইনের ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন রাউল হিমেনেস। স্কোরলাইন ৩-২ হতেই আজতেকায় আবার বিশ্বাস ফিরে আসে। শেষ ২০ মিনিটে মেক্সিকো প্রায় একতরফা চাপ তৈরি করে। ক্রস, কর্নার, বক্সে ভিড়—সবই ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় শেষ স্পর্শটি আর আসেনি।

ইংল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখেন পিকফোর্ড, বেলিংহ্যাম এবং মরিয়া রক্ষণ। বেলিংহ্যাম শুধু দুই গোল করেননি, নিজেদের বক্সেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল বাঁচিয়েছেন। বড় ম্যাচে তার এই সর্বব্যাপী উপস্থিতিই ইংল্যান্ডকে টিকিয়ে রাখে।

মেক্সিকোর বিদায় তাই শুধু স্কোরলাইনের গল্প নয়। তারা লড়েছে, খেলেছে, সমর্থকদের আশা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে সাহসের সঙ্গে সঙ্গে নিখুঁত ফিনিশিংও লাগে। সেই জায়গাতেই এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ এখন নরওয়ে। ব্রাজিলকে বিদায় করা আর্লিং হালান্ডদের বিপক্ষে সেই ম্যাচ হবে আরও কঠিন পরীক্ষা।