এই ৭ কাজের সূচনা হয় মহানবীর (সা.) হাতে

সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাত ধরে বদলেছে পৃথিবীর ইতিহাস। দূর হয়েছে অসভ্যতার অন্ধকার। সভ্য হয়েছে মানুষ। তিনি যেখানে গিয়েছেন, সেখানে সভ্যতা ও পবিত্রতার বীজ বপন করেছেন। আলো জ্বালিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে ইসলামে নানাবিধ আমল, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূচনা হয়েছে। অনেক আমল ও বিষয় রয়েছে, যেগুলো মহানবীর (সা.) হাত ধরে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি উল্লেখ করা হলো।
মসজিদে কুবা: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পর মুসলমানদের জন্য প্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তা মসজিদে কুবা। তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় মদিনার অদূরে কুবায় এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মদিনার কুলসুম ইবনে হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর জায়গায় হিজরতের প্রথম দিন এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। মসজিদে নববি থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এর অবস্থান। সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববির পরেই এর অবস্থান।
আজান: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরুতে আজান দেওয়া হয়। আজান মানে নামাজের দিকে আহ্বান করা। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগে অন্য কোনো নবী-রাসুলের যুগে আজান ছিল না। অধিকাংশ মুহাদ্দিসিনের মতে, প্রথম হিজরিতে মদিনায় আজান প্রবর্তিত হয়। ইবনে হাজারের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে। কারও কারও মতে, হিজরতের আগে মক্কায়।
জুমার নামাজ: প্রথম হিজরিতে জুমার নামাজ ফরজ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবায় অবস্থান শেষে শুক্রবারে মদিনায় পৌঁছান। বনি সালাম গোত্রের উপাত্যকায় জোহর নামাজের সময় হলে জুমার নামাজ আদায় করেন। ইতিহাসে এটিই প্রথম জুমার নামাজ। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় আরও পরে।
ইসলামি প্রচার কেন্দ্র: ইসলাম আসার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন বছর গোপনে দাওয়াত দিয়েছেন। তত দিনে কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। রাসুল (সা.) আরকাম ইবনে আবুল আরকাম (রা.)-এর বাড়িটিকে দ্বীনি দাওয়াত, কোরআন শিক্ষা ও তালিমের জন্য নির্বাচন করেন। সাফা পাহাড়ের কাছেই ছিল তার বাড়িটি। দারুল আরকামই ইসলামের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। (সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা: ৩৮-৩৯)
খুতবা: রাসুলুল্লাহ (সা.) শুক্রবার দিন মদিনায় আগমন করেন। কুবায় মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করে মদিনার ভেতরে যাত্রা করেন। বনু সালেম গোত্রের কাছে জোহর নামাজের সময় হলে জুমা আদায় করেন। নামাজের আগে যে খুতবা দেন ইসলামের ইতিহাসে সেটিই প্রথম খুতবা।
প্রথম লিখিত সংবিধান: রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় অবস্থান করে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সম্প্রতি স্থাপন, পরস্পর বিরোধ নিরসন করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের প্রয়াস পান। এ উদ্দেশ্যে তিনি মদিনায় বসবাসরত সব জাতির জন্য ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে একটি মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। যা বিশ্ব ইতিহাসে মদিনা সনদ নামে পরিচিত।
তারাবি: রমজান মাসের বিশেষ ইবাদত হলো তারাবি নামাজ। রমজানের চাঁদ দেখা গেলে রোজার আগেই তারাবি নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবি অর্থ বিশ্রাম নেওয়া, প্রশান্তি লাভ করা। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হলে তারাবি নামাজের প্রচলন শুরু হয়। (আল মাজমুয়া, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৫০)




