Advertisement

মৌলভীবাজারে পশুর সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা কম

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে পশুর সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা কম
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। জেলার আদমপুর, টেংরা, ব্রাহ্মণবাজার, শমশেরনগর ও ভৈরব বাজারসহ বিভিন্ন হাটে দেশীয় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সরবরাহ বেড়েছে। তবে, বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা সমাগম কম, কাঙ্ক্ষিত দামও পাচ্ছেন না তারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, ছোট ও মাঝারি গরুর দাম এখনও তুলনামূলক বেশি রাখা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশু নিয়ে খামারি ও কৃষকদের উপস্থিতি থাকলেও বিক্রি তুলনামূলক কম। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি গরুর সামনে ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেলেও দরদামে মিলছে না সমঝোতা। বড় গরুর বাজার তুলনামূলক ধীরগতির হলেও গ্রামীণ জনপদে মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি।

শমশেরনগর পশুর হাটে গরু কিনতে আসা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, একটি গরুর দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে দরদাম করে ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছি।

ক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও এখনও বিক্রেতারা বাড়তি দাম প্রত্যাশা করছেন। ফলে অনেকেই শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে দাম আরও কমে আসে।

অন্যদিকে খামারিরা বলছেন, গত এক বছরে গো-খাদ্য, ভুসি, খৈল, খড় ও ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে প্রতিটি পশু লালন-পালনে ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে কম দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

পশু খামারি রাজু ও কাইয়ুম মিয়া বলেন, খামারে যা গরু ছিল তার মধ্যে অর্ধেক বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ দাম পাইনি। ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন। খামার চালাতে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। প্রতিটি পশুর হাটে মেডিকেল টিম আছে, যাতে অসুস্থ বা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু শনাক্ত করা যায়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি টিম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে ক্রেতারা নিরাপদ পশু কিনতে পারেন এবং কোরবানির পশু পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌলভীবাজারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৫৮৪টি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯ হাজার ৪৮১টি গরু, ১ হাজার ৪৪৬টি মহিষ, ৩০ হাজার ৮২২টি ছাগল এবং ২ হাজার ৮৩৫টি ভেড়া। অথচ জেলার মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব।