খুলনায় কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ, খুলনা
খুলনায় কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য
মরদেহ উদ্ধার হওয়া কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কিশোরীর পরিচয় মিলেছে। সে নগরীর ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা বৃহস্পতিবার মর্গে গিয়ে মেয়েকে শনাক্ত করেন। এরপর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।

মর্গের সামনে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নির্জনা বাড়ি থেকে বের হলে তাকে ডেকে আবার বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। দুপুরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সবার অজান্তে সে আবার বের হয়ে যায়। আগে নির্জনা একটি চিঠি লিখেছিল, যাতে পরিবারের সদস্যদের তাকে খোঁজাখুঁজি না করার কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আরিফা ইয়াসমিন সীমা আরও দাবি করেন, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নির্জনা তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে। ১৭ দিন পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই যুবক নির্জনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। রনি কৌশলে নির্জনাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রেখে যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, এর আগে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার এক যুবকের সঙ্গেও নির্জনার বিয়ে হয়েছিল। তবে সেখানে এক দিন থাকার পর সে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করার পর পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর থেকে বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্জনাকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। বাবা-মায়ের রহস্যজনক অনুপস্থিতিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :খুলনা