বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিৎদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে জেলার চার উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যা ও নদী ভাঙনের শঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল তিনটায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক স্তর ৫২.১৫ মিটার); যা বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে, সকাল নয়টায় এই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল নয়টার পর থেকে উজানের পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয়ভাবে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। বিকেল তিনটার দিকে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) সম্পূর্ণ খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮-১০টি চর, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের নিচু এলাকার বেশকিছু ফসলিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তিস্তার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।






