ফরিদপুরে মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফরিদপুর
ফরিদপুরে মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন
গ্রেপ্তার মো. উজ্জ্বল খান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই জোড়া খুনের মামলায় নিহত নারীর পরকীয়া প্রেমিক মো. উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার উজ্জলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার বগারটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উজ্জ্বল মা-মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারা ও তার সন্তানকে ফরিদপুরে ডেকে নেন উজ্জ্বল। গত ৪ মার্চ রাতে সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এ সময় ঘটনাটি দেখে ফেলায় এবং কান্নাকাটি করায় শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

পরে উজ্জ্বল পাশেই দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নিকাব, শিশুর পোশাক, আসামির মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ও মাটিচাপায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন (ডিআই-১), কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৪ মে কোতোয়ালি থানাধীন চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়-সংলগ্ন স্থান থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকার জাহানারা বেগম (৩০) ও তার পাঁচ বছর বয়সি শিশুকন্যা সামিয়ার মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।