লিভার কি ঠিকমতো কাজ করছে, ৫ লক্ষণে সতর্ক হন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
লিভার কি ঠিকমতো কাজ করছে, ৫ লক্ষণে সতর্ক হন
ছবি : সংগৃহীত

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা করা থেকে শুরু করে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করা, পুষ্টি সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করা, সব ক্ষেত্রেই লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

Advertisement

কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত মদপানের কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় ফ্যাটি লিভার। অনেক সময় রোগটি দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থেকে যায়। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ আগে থেকেই দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ জমা

পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, এটি অনেক সময় ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিরও ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যাদের কোমরের চারপাশে দ্রুত মেদ বাড়ছে, তাদের লিভারের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।

সব সময় ক্লান্ত লাগা

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন দুর্বল বা ক্লান্ত লাগে, তাহলে সেটিও লিভারের সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে। লিভার ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে শক্তির ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং সারাক্ষণ অবসাদ অনুভূত হতে পারে।

ডান পাশের পাঁজরের নিচে অস্বস্তি

লিভার শরীরের ডান পাশে, পাঁজরের নিচে অবস্থিত। যদি ওই স্থানে বারবার চাপ, ভারী ভাব বা হালকা ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে তা লিভারে প্রদাহ বা অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ত্বকে পরিবর্তন দেখা দেওয়া

লিভারের সমস্যার প্রভাব অনেক সময় ত্বকেও দেখা যায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণ বেড়ে যেতে পারে, ঘাড় বা শরীরের ভাঁজে কালচে দাগ দেখা দিতে পারে কিংবা চুল পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। তবে শুধু ত্বকের পরিবর্তন দেখেই ফ্যাটি লিভার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

ক্ষুধা কমে যাওয়া বা বমিভাব

ঘন ঘন বমিভাব, অরুচি বা ক্ষুধা কমে যাওয়া লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে, যার কারণে হজমের সমস্যা ও বমিভাব দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

উপরের এক বা একাধিক লক্ষণ যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষা করে লিভারের অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারেন।

লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান।
  • অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও ভাজাপোড়া খাবার কম খান।
  • ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করবেন না।

ফ্যাটি লিভার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, পেটের মেদ, ডান পাশে অস্বস্তি বা ক্ষুধামন্দার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো সচেতন হলে লিভারকে সুস্থ রাখা অনেকটাই সহজ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস