ঘুমের সময় অনিয়ম করেন? বাড়তে পারে স্ট্রোক ও হার্টের ঝুঁকি

আমাদের জীবনের দৈনন্দিন চাপ ও ব্যস্ততার কারণে ঘুমের সময় প্রায়শই এলোমেলো হয়ে যায়। কেউ রাতের শেষ সময়ে কাজ শেষ করার জন্য দেরি করে ঘুমোতে যান, কেউ সকালে স্নিগ্ধ আলোতে দেরিতে উঠেন। প্রথম দেখলে মনে হতে পারে, সামান্য এই অনিয়ম কোনো বড় ক্ষতি করবে না, ঘুম তো হয়েই গেছে।
কিন্তু নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, এই ছোটখাটো এলোমেলো আচরণও নীরবে আপনার স্বাস্থ্যকে বিপদে ফেলতে পারে। ঘুমের সময় ঠিক না থাকা কেবল ক্লান্তি নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
কানাডার বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ-ফিলিপ শাপুট পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে ঠিক রাখে এবং হৃদয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে শুধু শক্তি ও মনোবলই ঠিক থাকে না, হৃদরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকিও কমে।
গবেষণায় ৪০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে তিনটি দলে ভাগ করা হয়; নিয়মিত ঘুম, মাঝারি অনিয়ম এবং অত্যন্ত অনিয়মিত ঘুম। ফলাফল ছিল স্পষ্ট-
- অত্যন্ত অনিয়মিত ঘুমের ক্ষেত্রে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি ২৬% বেড়ে গেছে
- মাঝারি অনিয়মে ঝুঁকি বেড়ে ৮%
- নিয়মিত ঘুমের ফলে ঝুঁকি ১৮% কম
ঘুমের অনিয়ম শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এতে বিপাক, হরমোন নিঃসরণ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যায়।
ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখার সহজ কিছু পরামর্শ
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান এবং ওঠার সময় ঠিক রাখুন
- ঘুমানোর আগে ভারী খাবার বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন
- মোবাইল ও স্ক্রিন কম ব্যবহার করুন
- ঘুমানোর আগে শান্ত পরিবেশে থাকুন এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন
স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের ঘুম বিশেষজ্ঞ স্কট কুচার মনে করেন, ঘুমের সময় ঠিক করা সহজতম কৌশল হলো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। একবার এটি ঠিক হলে অন্যান্য ঘুম সংক্রান্ত সমস্যা সহজে সমাধান হয়।
ক্লান্তি শুধু নয়, ঘুমের অনিয়ম অজান্তেই আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সুস্থ থাকতে হলে এখনই ঘুমের রুটিন ঠিক করা শুরু করুন।
সূত্র: হেলথলাইন





