Advertisement

অজান্তেই নষ্ট হচ্ছে লিভার, এড়িয়ে চলুন এই ৩ অভ্যাস

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
অজান্তেই নষ্ট হচ্ছে লিভার, এড়িয়ে চলুন এই ৩ অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

লিভারের ক্ষতি অনেক সময় নীরবেই শুরু হয়। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না যে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস ধীরে ধীরে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার সুস্থ রাখতে শুধু অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই যথেষ্ট নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু ভুল অভ্যাসও পরিবর্তন করা জরুরি।

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি খাবার হজমে সাহায্য করে, শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়, ওষুধের বিপাকক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এবং শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু লিভারের একটি বড় সমস্যা হলো, এটি অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

অনেকের ধারণা, শুধু অতিরিক্ত মদ্যপানই লিভারের ক্ষতির কারণ। বাস্তবে এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও রয়েছে, যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের তিনটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে লিভারের সুস্থতা অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব।

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া

মিষ্টি পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, কেক, বিস্কুট, চকলেট এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা পরিশোধিত চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সময়ের সঙ্গে এটি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট খাওয়া

অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথানাশক ওষুধ, ভিটামিন বা বিভিন্ন হারবাল সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত খেয়ে থাকেন। কিন্তু সব প্রাকৃতিক বা ভেষজ পণ্য নিরাপদ নয়।

লিভার শরীরে প্রবেশ করা প্রায় সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট প্রক্রিয়াজাত করে। তাই অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে লিভারের ওপর চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে প্যারাসিটামল অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে মারাত্মক লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ঘুমের সঙ্গে লিভারের স্বাস্থ্যেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ঘুমের সময় লিভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি প্রদাহ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

লিভার ভালো রাখতে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

  • প্রতিদিন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
  • অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্থূলতা থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

লিভারের রোগের শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া
  • পেটের ডান পাশে ব্যথা
  • ক্ষুধামন্দা
  • বমিভাব
  • গা চুলকানো
  • পা বা পেট ফুলে যাওয়া

লিভারের ক্ষতি শুধু মদ্যপানের কারণে হয় না। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ব্যবহারের ধরন এবং ঘুমের মতো সাধারণ বিষয়ও লিভারের স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুস্থ লিভারের জন্য শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত সচেতন থাকলে অনেক লিভার রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সূত্র: এই সময় অনলাইন