Advertisement

থাইরয়েডের সমস্যা হলে শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
থাইরয়েডের সমস্যা হলে শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়
ছবি : সংগৃহীত

থাইরয়েডের সমস্যা শুরুতে অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা মেজাজের ওঠানামার মতো লক্ষণ দিয়ে প্রকাশ পায়। তাই অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া থেকে শুরু করে হৃদ্‌স্পন্দন, শক্তি উৎপাদন এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। তাই এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।

সব সময় ক্লান্ত লাগছে, ওজন হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে, অকারণে মন খারাপ থাকছে কিংবা সব সময় গরম বা ঠান্ডা লাগছে? অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়স, কাজের চাপ বা আবহাওয়ার প্রভাব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলো কখনো কখনো থাইরয়েডের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত একটি ছোট প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, শক্তি উৎপাদন এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের প্রধান দুটি সমস্যা

থাইরয়েডের রোগ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে।

হাইপোথাইরয়েডিজম

এ অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হাশিমোটো'স থাইরয়েডাইটিস, যা একটি অটোইমিউন রোগ।

হাইপারথাইরয়েডিজম

এ ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হলো গ্রেভস ডিজিজ।

হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ

থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে সাধারণত দেখা দিতে পারে-

  • সব সময় ক্লান্ত লাগা
  • অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া
  • ঠান্ডা বেশি অনুভব করা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • মুখ, হাত বা পা ফুলে যাওয়া
  • বিষণ্নতা বা মন খারাপ থাকা
  • নারীদের মাসিক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হওয়া
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ঝরে পড়া

হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ

থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে দেখা দিতে পারে-

  • ওজন দ্রুত কমে যাওয়া
  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্ষুধা লাগা
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • সব সময় গরম লাগা
  • হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • উদ্বেগ বা অস্থিরতা
  • হাত কাঁপা
  • ঘুমের সমস্যা
  • বারবার পায়খানা হওয়া
  • অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া
  • থাইরয়েডে গিঁট বা ক্যানসারের লক্ষণ

সব থাইরয়েড সমস্যা হরমোনজনিত নয়। অনেকের থাইরয়েডে গিঁট বা নডিউল হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ক্যানসার নয় এবং কোনো লক্ষণও দেখা যায় না।

তবে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • গলায় গিঁট বা ফোলা
  • কণ্ঠস্বর পরিবর্তন বা ভাঙা
  • খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া
  • গলার লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের, পরিবারের কারও থাইরয়েড রোগদের, অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং আগে থাইরয়েডের অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা হয়ে থাকলে থাইরয়েডের সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয়ে চিকিৎসক সাধারণত TSH পরীক্ষা, T3 ও T4 হরমোনের পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে থাইরয়েডের আলট্রাসনোগ্রাফি ও বিশেষ ক্ষেত্রে বায়োপসির মতো কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেন।দ

থাইরয়েডের চিকিৎসা কী?

চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন ও কারণের ওপর। যেমন-

  • হাইপোথাইরয়েডিজমে সাধারণত থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ দেওয়া হয়।
  • হাইপারথাইরয়েডিজমে ওষুধ, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি বা প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে।
  • থাইরয়েডে ক্যানসার বা বড় গিঁট থাকলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের সমস্যাগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  1. দীর্ঘদিন ক্লান্তি
  2. অকারণে ওজনের পরিবর্তন
  3. গলায় ফোলা বা গিঁট
  4. হৃদ্‌স্পন্দনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
  5. অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম অনুভব করা
  6. চুল পড়া বা ত্বকের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

থাইরয়েড সুস্থ রাখতে কী করবেন?

থাইরয়েডের সব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস উপকারী হতে পারে। এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন ও পর্যাপ্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন।

এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। পরিবারের কারও থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

থাইরয়েডের সমস্যা খুবই সাধারণ হলেও সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, গলার ফোলা বা অন্য কোনো সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

সূত্র: হেল্থ ম্যাটার্স