স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ ও প্রতিরোধে কী করবেন

স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা, যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন না পেয়ে ধীরে ধীরে মারা যেতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা হওয়া বা হাঁটাচলার ক্ষমতা হারানোর মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক এখন অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে ভালো খবর হলো, অনেক ক্ষেত্রেই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্ট্রোকের ঝুঁকির প্রধান কারণসমূহ
উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলে রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে।
অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে
- কম লবণ খান
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
উচ্চ কোলেস্টেরল
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে ধমনিতে প্লাক (র্বি, কোলেস্টেরল এবং ক্যালসিয়ামের একটি মোমজাতীয় স্তর যা আপনার ধমনীর ভিতরে জমা হওয়া) তৈরি করতে পারে। এতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
কোলেস্টেরল কমাতে
- তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খান
- বেশি ফল ও শাকসবজি খান
- নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন
ধূমপান
ধূমপান রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া এটি রক্তচাপও বাড়িয়ে দেয়। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে
- সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খান
অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা
কিছু রোগ স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। যেমন:
- হৃদরোগ
- অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (অনিয়মিত হৃদস্পন্দন)
- ক্যারোটিড ধমনির সংকোচন
- সিকল সেল রোগ
- আগের মিনি-স্ট্রোক বা TIA-এর ইতিহাস
স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়
স্বাস্থ্যকর খাবার খান: প্রতিদিনের খাবারে বেশি করে ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার বা অন্য কোনো ব্যায়াম করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন: ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি অ্যালকোহল কমানোও জরুরি।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন: প্রতি বছর অন্তত একবার রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন: যদি আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকে, তাহলে নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা চালিয়ে যান।
স্ট্রোকের সতর্কসংকেত
হঠাৎ করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান:
- শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া
- কথা জড়িয়ে যাওয়া
- হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া
- মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো
- তীব্র মাথাব্যথা
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা পেলে প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
সূত্র: হেলথলাইন
.png)







