‘শুধু লাভের জন্য নয়, দেশের মানুষের কথা ভেবে ব্যবসা করা উচিত’

দেশের পোলট্রি ও অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘আফতাব’-এর এগিয়ে চলার পেছনের অন্যতম কারিগর জনাব মাহবুব রহমান সরকার। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডে দীর্ঘ ২৫ বছর ফাইন্যান্স, ট্রেজারি, প্ল্যানিং ও অপারেশনসসহ করপোরেট বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ করপোরেট অভিজ্ঞতার পর দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পে যুক্ত হয়ে বর্তমানে ইসলাম গ্রুপের আফতাব ফিড প্রোডাক্টস ও আফতাব হ্যাচারির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অ্যাগ্রি-বিজনেসের ভবিষ্যৎ।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ব্যবসাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘বিয়ন্ড বিজনেস’-এ এসেছিলেন অতিথি হয়ে। কথা বলেছেন করপোরেট লিডারশিপ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেশীয় শিল্পে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন রিয়াজুল করিম। সম্পাদনা করেছেন জায়েদ আল মাহবুব।
প্রশ্ন: আপনার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শুরুটা জানতে চাই। প্রথম কর্মজীবন কোথায় এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল?
মাহবুবুর রহমান সরকার: আমি অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশের স্বনামধন্য ইসলাম গ্রুপে আমার কর্মজীবন শুরু করি। নব্বইয়ের দশকে ইসলাম গ্রুপের বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ছিল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান। তখন আমি এই গ্রুপের ফাইন্যান্স বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে আমার পেশাদার জীবনের পথচলা শুরু করি। তৎকালীন সময়ে বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন অনেক বড় একটি প্রতিষ্ঠান ছিল এবং তারা দেশের বাইরেও অনেক বড় বড় প্রজেক্টে কাজ করত।
প্রশ্ন: আপনি পরিসংখ্যানে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। সাধারণত এই ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ ভিন্ন পথে যান, কিন্তু আপনি ফাইন্যান্স বেছে নিলেন এবং পরবর্তীতে এমবিএও করেছেন। এই শিক্ষাজীবনের ভিন্ন দুটি ডাইমেনশন বেছে নেওয়ার কারণ কী ছিল?
মাহবুবুর রহমান সরকার: যখন আমি এইচএসসিতে পড়ি, তখনই আমার মাথায় এসেছিল যে ভবিষ্যতে আমি কী করব। একটা বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার ছিল যে আমি চিকিৎসাবিজ্ঞান বা মেডিকেলে পড়ব না। তখন আমার সামনে দুটি অপশন ছিল, হয় বিজ্ঞান নিয়ে পড়া, অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং। আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে মেডিকেলে পড়ব না, তখন আমি বায়োলজির পরিবর্তে পরিসংখ্যান বিষয়টি গ্রহণ করি। দুই বছর পড়ার পর আমার মনে হলো, এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয়। যদিও তখন এটি বেশ নতুন ছিল এবং খুব বেশি মানুষ পরিসংখ্যানে পড়ত না। এটি অনেকটা গণিতের উন্নত সংস্করণ। এই বিষয়টি আমি খুব উপভোগ করতাম এবং আমার কাছে মনে হয়েছিল, উচ্চশিক্ষার জন্য এটি একটি ভালো সাবজেক্ট হতে পারে।
পরবর্তীতে আমি যখন করপোরেট জগতে ইসলাম গ্রুপের ফাইন্যান্স বিভাগে কাজ শুরু করি, তখন দেখলাম এখানেও পরিসংখ্যানের প্রচুর কাজ আছে। ফোরকাস্টিং করা, ডেটা নিয়ে কাজ করা কিংবা প্রবাবিলিটি নিয়ে কাজ করা, এসব বিষয় ফাইন্যান্সেও খুব জরুরি। এরপর যখন আমি লাফার্জে চলে যাই, তখন সেখানে ট্রেজারি এবং ফাইন্যান্সের দায়িত্ব পাই। সেখানে কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হলো, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে যদি আমি টপ ম্যানেজমেন্ট রোলে যেতে চাই, তবে আমার দুটি জিনিস জানা খুব দরকার। প্রথমত, বিজনেস সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা এবং দ্বিতীয়ত, ফাইন্যান্স সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা। এই চিন্তা থেকেই আমি এমবিএ করি এবং মেজর হিসেবে ফাইন্যান্স বেছে নিই। কারণ, ম্যানেজমেন্ট লেভেলে বিজনেস লিড দিতে হলে ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট, পে-ব্যাক পিরিয়ড, আইআরআর কিংবা ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যক।
প্রশ্ন: আপনি ‘ট্রেজারি’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন এবং বলেছেন এটি আপনার কাছে খুব আকর্ষণীয় ছিল। সাধারণ একজন শিক্ষার্থীর কাছে মার্কেটিং বেশি রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে, কিন্তু আপনার কাছে ট্রেজারি কেন এত ইন্টারেস্টিং মনে হলো?
মাহবুবুর রহমান সরকার: এটি খুবই যৌক্তিক একটি প্রশ্ন। আসলে আমাদের দেশের অনেক স্থানীয় কোম্পানিতে ট্রেজারি বিভাগ সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। কিন্তু ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং আকর্ষণীয় একটি কাজ। আপনি যদি বাংলাদেশের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো দেখেন, তবে দেখবেন তাদের প্রত্যেকের একটি শক্তিশালী ট্রেজারি টিম থাকে। ট্রেজারির মূল কাজ হলো, একটি বিজনেসে যখন অর্থের প্রয়োজন হয়, সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নির্ধারণ করা। এই টাকা কি মালিকের কাছ থেকে ইকুইটি হিসেবে আসবে, নাকি ব্যাংক থেকে লোন হিসেবে নেওয়া হবে? যদি লোন নেওয়া হয়, তবে সেটি কি দীর্ঘমেয়াদি হবে, নাকি স্বল্পমেয়াদি? লোনটি কি স্থানীয় মুদ্রায় হবে, নাকি বৈদেশিক মুদ্রায়? এই যে ফিউচার ক্যাশ ফ্লো এবং প্রজেকশন নিয়ে কাজ করা, এটিই ট্রেজারির কাজ। এটি মূলত ভবিষ্যৎ প্রজেকশন এবং ডেটা অ্যানালাইসিসের একটি সমন্বয়।
প্রশ্ন: এই যে ভবিষ্যৎ প্রজেকশন বা হাইপোথেটিক্যাল ডেটার কথা বলছেন, এর সঠিকতা বা অ্যাক্যুরেসি নিশ্চিত করার উপায় কী? কারণ হাইপোথিসিস তো সবসময় কাজ না-ও করতে পারে।
মাহবুবুর রহমান সরকার: প্রথমত, আপনার কাছে অতীতের ডেটা থাকতে হবে। যে কোনো খাতে নতুন বিনিয়োগ করার আগে একটি প্রপার ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করা দরকার। ওই খাতের বর্তমান অবস্থা কী, দেশের মোট বিনিয়োগ কত, ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের অবস্থা কেমন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা খুব জরুরি। বাংলাদেশে অনেক সময় সঠিক ডেটা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে আমরা নিজেরাও ডেটা খুঁজি এবং পেশাদার এক্সপার্টদের সাহায্য নিই। যেমন বাংলাদেশে আইডিএলসি বা ব্র্যাক ইপিএলের মতো প্রতিষ্ঠান আছে, যারা নির্দিষ্ট সেক্টর নিয়ে কাজ করে। কোনো প্রফেশনাল কোম্পানিকে দিয়ে যখন আপনি একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট করাবেন, তখন সেখানে চ্যালেঞ্জ, অপরচুনিটি এবং রিস্কগুলো পরিষ্কারভাবে উঠে আসবে। এমনকি কাঁচামাল বা বিদ্যুতের প্রাপ্যতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোও সেখানে বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রশ্ন: অনেক সময় দেখা যায়, সব ধরনের ডেটা অ্যানালাইসিস করার পরও বিদেশি বিনিয়োগ বা লোন পাওয়া সম্ভব হয় না। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
মাহবুবুর রহমান সরকার: দেখুন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফরেন কারেন্সি বা ডলার ব্যবহারের একটি বড় ঝুঁকি আছে। ডলারের দামের যে ওঠানামা, তা ফিউচার ক্যাশ ফ্লোতে বড় প্রভাব ফেলে। আপনার রেভিনিউ যদি স্থানীয় মুদ্রায় হয় এবং লোন যদি ডলারে হয়, তবে সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধরুন, আপনি যখন লোন নিলেন, তখন ডলারের দাম ১২২ টাকা। কিন্তু দুই বছর পর শোধ করার সময় যদি তা ১৪০ টাকা হয়ে যায়, তবে আপনাকে ওই বাড়তি দরেই ডলার কিনে শোধ করতে হবে। তবে আপনার যদি এক্সপোর্ট বিজনেস থাকে এবং আয় ডলারে হয়, তবে এই রিস্ক অটোমেটিক হেজ হয়ে যায়। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইকুইটি এবং ডেটের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রেশিও থাকা খুব জরুরি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অনেক বড় বড় শিল্প গ্রুপ পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সেক্ষেত্রে বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সমন্বয় কতটা প্রপারলি হয়? ম্যানেজমেন্টের মতামত কি গুরুত্ব পায়?
মাহবুবুর রহমান সরকার: একটি আদর্শ বিজনেস গভর্নেন্সে তিনটি স্তর থাকে, মালিকপক্ষ, বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্ট। অনেক ফ্যামিলি-ওনড বিজনেসে বোর্ড পুরোপুরি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকে, যেখানে ম্যানেজমেন্টের রিপ্রেজেন্টেশন খুব কম। আমি মনে করি, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রাকচার। বোর্ডে অবশ্যই ম্যানেজমেন্ট এবং প্রয়োজনে ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর থাকা উচিত। তালিকাভুক্ত বা লিস্টেড কোম্পানিগুলোতে এটি বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও এখন সময় এসেছে স্ট্রাকচার পরিবর্তন করার। বোর্ড যত শক্তিশালী হবে এবং সেখানে যত বেশি ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট থাকবে, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগুলো তত বেশি নিখুঁত হবে।
প্রশ্ন: অনেক সময় মালিকপক্ষের আবেগ বা ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্টের কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
মাহবুবুর রহমান সরকার: মালিকদের অনেক সময় মনে হতে পারে যে তারা তাদের মূল ব্যবসার বাইরে ভিন্ন কোনো খাতে বিনিয়োগ করবেন। একে আপনি ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্ট বলতে পারেন। এখানে ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব হলো মালিককে ওই খাতের বাস্তব চিত্রটি দেখানো। একটি প্রপার ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তৈরি করে ফিউচার ক্যাশ ফ্লো এবং ঝুঁকির জায়গাগুলো বোর্ডে উপস্থাপন করতে হবে। এরপরও যদি মালিক ঝুঁকি নিতে চান, তবে সেটি তার সিদ্ধান্ত। তবে অনেক সময় অন্য কোম্পানিকে কপি করার প্রবণতা থেকে ভুল বিনিয়োগ হয়। সেক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি একুইজিশনের কথা চিন্তা করা। যদি কোনো কোম্পানি ভালো করতে না পারে, কিন্তু তার ব্র্যান্ড ভ্যালু বা মার্কেট শেয়ার থাকে, তবে নতুন সেটআপ না করে সেটি একুইজিশন করা অনেক সময় বেশি লাভজনক হয়। তবে একুইজিশনের আগে অবশ্যই ফিন্যান্সিয়াল এবং লিগ্যাল ডিউ ডিলিজেন্স করে নিতে হবে।
প্রশ্ন: একটি ব্যবসার স্থায়িত্ব বা সাস্টেইনেবিলিটির ক্ষেত্রে ফিক্সড কস্টের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মাহবুবুর রহমান সরকার: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একটি ব্যবসার ফিক্সড কস্ট যতটা সম্ভব কাম্য পর্যায়ে রাখা উচিত। সাধারণত মোট টার্নওভারের ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে ফিক্সড কস্ট রাখা নিরাপদ। ফিক্সড কস্ট যত বেশি হবে, ব্যবসায় ঝুঁকির পরিমাণ তত বাড়বে। কারণ, ব্যবসা ভালো বা খারাপ যাই হোক, ফিক্সড কস্ট আপনাকে বহন করতেই হবে। গত কয়েক বছরে আমরা করোনা মহামারি কিংবা রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি দেখেছি। এমন সংকটকালীন সময়ে যাদের ফিক্সড কস্ট বেশি ছিল, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই স্থিতিশীলতার জন্য অপটিমাম লেভেলে ফিক্সড কস্ট বজায় রাখা জরুরি।
প্রশ্ন: পোলট্রি ও অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিতে প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকা নিয়ে অনেক কথা হয়। বড় করপোরেটগুলোর দাপটে তারা কি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না? আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
মাহবুবুর রহমান সরকার: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত খামারিদের লাভবান করা। খামারিরা যদি লাভ করতে না পারে, তবে পুরো চেইনটি ভেঙে পড়বে এবং আমরাও আমাদের ব্যবসা চালাতে পারব না। পোলট্রি বাজারে বাচ্চার দাম বা ফিডের দাম মূলত ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের ওপর নির্ভর করে। কখনও বাচ্চার উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে আমাদের বিক্রি করতে হয়, আবার কখনও হয়তো দাম একটু বেশি থাকে। এটি একটি ফ্লেক্সিবল মার্কেট। তবে খামারি যদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সঠিকভাবে ফার্ম ম্যানেজমেন্ট করতে পারে, তবে তার লস হওয়ার কারণ নেই। আমাদের ভেটেরিনারি ডাক্তাররা খামারিদের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকেন, যাতে তারা লাভজনকভাবে ফার্ম পরিচালনা করতে পারেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অ্যাগ্রো সেক্টরে প্রযুক্তির ব্যবহার বা আরঅ্যান্ডডি-এর অবস্থা কেমন? আমরা কি বৈশ্বিক মানদণ্ডে পিছিয়ে আছি?
মাহবুবুর রহমান সরকার: প্রযুক্তির দিক থেকে আমরা চীন বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছি। যদিও দেশে কৃষি বিপ্লব হয়েছে, কিন্তু আইওটি ডিভাইসের ব্যবহার বা উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ এখনও পর্যাপ্ত নয়। এখানে সরকারি সহযোগিতার বড় প্রয়োজন আছে। আমরা আমাদের ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত আরঅ্যান্ডডি করি, যাতে ফিডের সেরা ফর্মুলেশন নিশ্চিত করা যায়। অনেক সময় নিম্নমানের ফিড নিয়ে নিউজ দেখা যায়, কিন্তু বড় কোম্পানিগুলো কখনও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ব্যবহার করে না। মূলত হ্যান্ডমেড বা অপেশাদার উপায়ে যারা ফিড বানায়, তারাই অনেক সময় খরচ কমাতে গিয়ে ভুল উপাদান ব্যবহার করে। আমাদের উচিত শুধু লাভের জন্য নয়, দেশের মানুষের কথা ভেবে ব্যবসা করা।
প্রশ্ন: আফতাব অ্যাগ্রোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া নিয়ে আপনাদের কোনো চিন্তা আছে কি?
মাহবুবুর রহমান সরকার: আমাদের আগামী পাঁচ বছরের বড় একটি লক্ষ্য হলো পাবলিকলি লিস্টেড হওয়া। আমাদের গ্রুপের ইস্টার্ন হাউজিং অনেক আগে থেকেই শেয়ারবাজারে আছে। অনেক মালিকের ধারণা যে লিস্টেড হলে নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, কিন্তু এটি ভুল ধারণা। লিস্টেড হওয়া মানে প্রতিষ্ঠানের গভর্নেন্স এবং দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি ব্যবসার সাস্টেইনেবিলিটি নিশ্চিত করে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের বড় বড় সব গ্রুপের উচিত শেয়ারবাজারে আসা। এতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং পেশাদারত্ব বাড়বে।
প্রশ্ন: নতুন যারা ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করছে, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী হবে? সরাসরি উদ্যোক্তা হওয়া, নাকি আগে চাকরি করা?
মাহবুবুর রহমান সরকার: আমি মনে করি, দুটিই সম্ভব। তবে কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চায়, তাকে অবশ্যই রিস্ক টেকার হতে হবে। শুধু লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু না করে নিজের কিছু ক্যাপিটাল থাকা ভালো। আর যারা চাকরি করতে চায়, তাদের উদ্দেশে বলব, শুরুতেই বড় পজিশন বা দ্রুত পরিবর্তনের চিন্তা না করে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর একটি প্রতিষ্ঠানে থেকে কাজ শেখা উচিত। ক্যারিয়ারে শুধু ভার্টিক্যালি নয়, হরিজন্টালিও মুভ করতে হবে। অর্থাৎ, ভিন্ন ভিন্ন রোলে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে তাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বড় হতে হলে বড় চিন্তা করা শিখতে হবে।
প্রশ্ন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য। আপনার এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের পাঠকদের অনেক কাজে আসবে।
মাহবুবুর রহমান সরকার: আপনাকে এবং এশিয়া পোস্টের পাঠকদেরও অনেক ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।
.png)





