‘ডিবি অফিসের নির্যাতনের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায়’

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে ১২৮টি মামলা এবং অসংখ্যবার কারাবরণের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে আজ তিনি সংসদে। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে এসেছিলেন অতিথি হয়ে। কথা বলেছেন তৃণমূল থেকে তার সংগ্রামী জীবন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর।
এশিয়া পোস্ট: দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ আপনি সংসদে। জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আপনার সময় কেমন কাটছে?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: সত্য বলতে, আমি বিরোধী দলের দিনগুলোকে ভীষণ মিস করি। আমাদের রাজনীতির শুরু মূলত সামরিক স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমল থেকে। আমরা যখন কৈশোর উত্তীর্ণ তরুণ, তখন এরশাদবিরোধী তুমুল ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ দেখেছি এবং সেই প্রতিবাদের মধ্য দিয়েই আমাদের রাজনৈতিক দীক্ষা হয়েছে। আমি ১৯৮৭ সালে গ্রামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হই। তখন ফরিদপুর শহরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও দর্শন রেখে গিয়েছিলেন, তার অবর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া সেই হাল ধরলেন। অনেকে ভেবেছিলেন জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দলের অস্তিত্ব থাকবে না, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে নামলেন এবং মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা পেলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে যখন কেউ চিন্তাই করেনি যে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, তখন মানুষ বিপুল ভোটে বেগম জিয়ার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখল। সেই সময় ঝাঁকে ঝাঁকে তরুণরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল, আমিও সেই কাফেলার একজন হিসেবে পথচলা শুরু করি। আজ যখন সংসদে বসি, তখন সেই রাজপথের লড়াকু দিনগুলোর কথাই বেশি মনে পড়ে।
এশিয়া পোস্ট: জিয়াউর রহমানের প্রতি আপনার এই যে টান, এর পেছনে কি শৈশবের কোনো বিশেষ স্মৃতি কাজ করেছে?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: অবশ্যই। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার একটি চমৎকার শৈশব স্মৃতি আছে। আমি যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি, তখন আমাদের স্কুলের পাশের হাইওয়ে দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। আমাদের নির্দেশ দেওয়া ছিল আমরা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাই। তিনি সেখানে গাড়ি থামালেন এবং আমার মাথায় হাত দিয়ে আদর করে দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতিটি আমার মনে চুম্বকের মতো কাজ করেছিল। এরপর আমি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন এক দিন স্কুলে এক স্তব্ধ পরিবেশ দেখতে পেলাম। শিক্ষকরা খুব শোকাহত ছিলেন এবং আমাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হলো। পরে শুনলাম প্রেসিডেন্টকে চট্টগ্রামে হত্যা করা হয়েছে। যদিও তখন রাজনীতির গভীরতা বোঝার বয়স ছিল না, কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও কষ্ট আমি উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। সেই থেকে তার আদর্শ আমার হৃদয়ে গেঁথে যায়।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতিতে আসার শুরুতে আপনার পরিবারের সমর্থন কেমন ছিল?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: শুরুতে আমার পরিবার জানত না যে আমি ছাত্রদলের মিছিলে যাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ধীরে ধীরে জানাজানি হয়। তখন আমার আত্মীয়-পরিজন এমনকি স্কুলের শিক্ষকরাও খুশি হননি। তাদের ধারণা ছিল মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া মানেই বিপথে যাওয়া। তখনকার দিনে মনে করা হতো রাজনীতি মানেই সন্ত্রাস আর গুন্ডামি। কিন্তু আমার বাবা, যিনি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তিনি আমাকে কখনও প্রকাশ্যে বাধা দেননি। তিনি ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের পরিবারে একটা আওয়ামী লীগবিরোধী চেতনা ছিলই। আমি পর্যায়ক্রমে ছাত্রদলের ছয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেছি এবং সর্বশেষ সিনিয়র সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি। ছাত্রদলের সঙ্গে আমার মূলত একটি আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে।
এশিয়া পোস্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন আপনার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য কোনো কষ্টের স্মৃতি যদি বলতেন।
শহিদুল ইসলাম বাবুল: অসংখ্য স্মৃতি আছে, তবে হল ছাড়ার স্মৃতিটি সবচেয়ে বেদনাদায়ক। আমি কবি জসিমউদ্দিন হলের ছাত্র ছিলাম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একে একে হলগুলো দখল করে নেওয়া শুরু হলো। ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে ছাত্রলীগের অত্যাচারে আমরা হল ছাড়তে বাধ্য হলাম। আমার কক্ষটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আমি কিছুই নিয়ে বের হতে পারিনি। হলে থাকার সময় বন্ধুদের সঙ্গে যে আড্ডা, সেই পরিবেশটা হারিয়ে ফেলা ছিল ভীষণ কষ্টের। এরপর মেসে থাকা শুরু করলাম, যেখানে হলের মতো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। সেই রূপান্তরটা মানিয়ে নিতে অনেক সময় লেগেছিল। তবে রাজনীতির কারণে যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা আজ প্রাপ্তির চেয়েও বড় মনে হয়।
এশিয়া পোস্ট: ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আপনার গ্রেপ্তারের বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনা সংক্ষেপে জানতে চাই।
শহিদুল ইসলাম বাবুল: সেটি ছিল এক নাটকীয় ঘটনা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আমি যখন আমার বাসায় তৈরি হচ্ছিলাম, তখন ডিবির একটি দল পরিচয় না দিয়ে বিএনপির লোক সেজে আমার বাসায় ঢোকে। তারা সরাসরি আমার বেডরুমে চলে আসে। আমার স্ত্রী বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আমাকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দেন। আমি পালিয়ে পাশের এক বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিলাম। তারা আমাকে না পেয়ে আমার ভাগনেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে। এরপর আমি কয়েক দিন পালিয়ে থাকার পর এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিই। আমার কাছে কোনো ফোন ছিল না, কিন্তু আমি একজনের ফোন থেকে এলাকায় একটি কল করেছিলাম। সেই কল ট্র্যাক করে পুলিশ ফিল্মি কায়দায় আমাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ডিবি অফিসে আমাকে ঝুলিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। তখনকার সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনও শিউরে উঠি। ওই ঘটনায় আমি ছয় মাস জেল খেটেছিলাম।
এশিয়া পোস্ট: আপনার আমলের ছাত্ররাজনীতি আর বর্তমানের ছাত্ররাজনীতির মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেন কি না?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আমাদের সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘাত ছিল ঠিকই, কিন্তু রাজনীতির মধ্যে একটি শালীনতা ও সৌহার্দ্য ছিল। আমরা মধুর ক্যান্টিনে পাশাপাশি বসতাম। ছাত্রদলের নেতা হয়েও ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল। নেতাদের গায়ে কেউ হাত তুলত না। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছরে আওয়ামী লীগ যে সংস্কৃতি চালু করেছে, তা ন্যক্কারজনক। ছাত্রদলের ওপর ৪৭৬ বার হামলা হয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আমাদের অসংখ্য নেতাকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা বর্ণনাতীত। এখনকার রাজনীতিতে সহনশীলতা নেই বললেই চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় মুক্তবুদ্ধি ও গণতন্ত্র চর্চার পাদপীঠ ছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সেখানে মাদক আর দুর্বৃত্তায়নের আখড়া তৈরি করেছিল। ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত সৌন্দর্যমণ্ডিত ও মার্জিত, যা বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে।
এশিয়া পোস্ট: আপনি বর্তমানে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক। একজন ছাত্রনেতা থেকে কৃষক দলের নেতৃত্বে আসার গল্পটা জানতে চাই।
শহিদুল ইসলাম বাবুল: আমি একটি বৃহৎ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছি। আমাদের পরিবারে ৫ জোড়া হালের বলদ ছিল, ৩৫-৪০ জনের একান্নবর্তী পরিবারের রান্না হতো এক হাঁড়িতে। আমি নবান্ন আর কৃষকের সংগ্রাম দেখে বড় হয়েছি। আমি জানি কৃষক কীভাবে তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের শ্রমের ফসল লুটে নেয়। আমাদের ফরিদপুর অঞ্চলে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়—সারা দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় তার একটি বড় অংশ আসে ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে। কিন্তু কৃষক সঠিক মূল্য পায় না বলে ফসল পচে যায়। কৃষকরা এই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তারা আজ উপেক্ষিত। আমি আমার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম যে, আমি প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কাজ করতে চাই। কৃষক দল প্রতিষ্ঠার পেছনেও শহীদ জিয়ার উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের সংগঠিত করা এবং তাদের অধিকার সচেতন করে তোলা। আমি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
এশিয়া পোস্ট: প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত কৃষক দলের উল্লেখযোগ্য সাফল্য কী?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: কৃষক দল ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কৃষকদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাস্টিস আব্দুল সাত্তার। এরপর মান্নান ভূঁইয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো নেতারা এর হাল ধরেছেন। আমরা হয়তো কৃষকদের মাঝে আমাদের রাজনীতি পুরোপুরি পৌঁছাতে পারিনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি। বিশেষ করে বিগত আন্দোলনে আমরা রাজপথে হাজার হাজার কৃষক নিয়ে প্রতিবাদ করেছি, আমাদের নেতাকর্মীরা শহীদ হয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিল এবং ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ করেছিল। এগুলো কৃষকদের জন্য ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা এখন আগামী দিনের জন্য এমন পরিকল্পনা করছি যেন কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পায় এবং কৃষি উপকরণের দাম সাধারণের নাগালে থাকে।
এশিয়া পোস্ট: ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নের জন্য আপনার বিশেষ পরিকল্পনা কী?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: আমার এলাকায় মাদক এক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, মাদক কারবারির কোনো দল নেই। প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া না হয়। আমার নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার নজির আমি তৈরি করেছি। এ ছাড়া এলাকায় একটি ট্রমা সেন্টার ও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আমি সংসদে জোরালো দাবি জানাব। আমার নির্বাচনি এলাকায় তিনটি উপজেলা—ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন। এই এলাকায় নদীভাঙন একটি বড় সমস্যা। আমি মানুষের ‘গডফাদার’ নয়, বরং তাদের আপনজন হয়ে থাকতে চাই। মানুষের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।
এশিয়া পোস্ট: ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, আপনি কী মনে করেন?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: পরিবর্তন অবশ্যই এসেছে। ৫ আগস্টের আগে দেশে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বলতে কিছু ছিল না। শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হতো। এখন সেই পরিবেশ নেই। এখন মানুষের মধ্যে জবাবদিহিতা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ বাহিনী—সবাই এখন জানে যে তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা প্রতিহিংসার বদলে শান্তির বার্তা দিয়েছি। তারেক রহমান স্পষ্ট বলেছেন যে কোনো প্রতিহিংসা নয়। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কিছুটা উদ্ধতভাব থাকলেও তারা এখন বুঝতে শুরু করেছে যে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সঙ্গে নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা জানতে চাই?
শহিদুল ইসলাম বাবুল: রাজনীতি তো মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি চাই শিক্ষিত ও ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসুক। ভালো মানুষ না আসলে মন্দ মানুষরা সমাজ শাসন করবে। দেশটা আমাদের সবার। সরকার আসবে, সরকার যাবে, কিন্তু দেশটাকে ভালোবাসতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা যাবে না। আমি সারাজীবন নীতি ও আদর্শ বজায় রেখে দল করেছি। আগামী ১০ বছরে আমি নিজেকে কোথায় দেখব, তা দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমি জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাই। ভালোবাসা আর দেশপ্রেমের মধ্য দিয়েই আমরা একটি সুন্দর সমাজ গড়তে পারি—এটাই আমার বিশ্বাস। শংকরের সেই কথাটি দিয়েই শেষ করি—‘ভালোবেসে মিটিলো না সাধ, কুলালো না এ জীবনে। হায় জীবন এত ছোট কেনে!’ মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকাটাই আসল কথা।




