জ্বালানি সংকটের বড় ঝুঁকিতে উন্নয়নশীল দেশগুলো: বিশ্লেষক

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জ্বালানি সংকটের বড় ঝুঁকিতে উন্নয়নশীল দেশগুলো: বিশ্লেষক
জ্বালানি সংকটে গ্যাস নিতে সিলিন্ডার নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কার দুজন নারী। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানসহ উপসাগরীয় চার দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালায় তেহরান। তাদের দাবি, মূলত এসব দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুদ্ধ ও মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি কখনও খুলে দেওয়া হবে না। তেহরানের এই মন্তব্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত চার মাসে তেলের দাম বর্তমানে সবোর্চ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেসটিভির প্রকাশিত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মিত ভিডিওতে আরেকটি সংকীর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের ক্রমাগত এই হুমকি ও হরমুজ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক চাপ বেড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে তেলের মজুত ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা।

আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বিশেষজ্ঞ কর্নেলিয়া মেয়ার সুইজারল্যান্ডের বার্ন থেকে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী কয়েক মাস বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেখতে হবে।’

তবে বাজার যে এখন পর্যন্ত এর চেয়ে বড় ধরনের কোনো ধাক্কা বা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, তার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এতদিন কিছু দেশের কাছে জ্বালানির যে আপৎকালীন মজুত ছিল, তারা তা ব্যবহার করতে পেরেছে। যদিও সেই মজুত এখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে।’

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানির প্রধান ভোক্তা চীন আগের তুলনায় অনেক কম তেল-গ্যাস আমদানি করায় বাজারে চাপ কিছুটা কম ছিল বলে উল্লেখ করেছেন মেয়ার।

রাজনৈতিক সমীকরণের উল্লেখ করে এই বিশ্লেষক জানান, বাজারগুলো এখনই একটি পুরোদস্তুর বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পূর্বাভাস দিচ্ছে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন আসছে, যার ফলে ওয়াশিংটন হয়তো এই মুহূর্তে কোনো বড় যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। অন্যদিকে, চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরানের পক্ষেও একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ চালানো সম্ভব নয়।

তবে মেয়ার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘বাজারগুলো বর্তমানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাচ্ছে বা বিবেচনা করছে না। প্রথমত, বৈশ্বিক জ্বালানি মজুত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালির চলমান ‘খোলা ও বন্ধ’ অবস্থার কারণে বীমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পণ্য ও জাহাজের বীমা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তিনি জানান, চলমান ঝুঁকির কারণে ইতোমধ্যেই বহু জাহাজ হরমুজ প্রণালি ছেড়ে চলে গেছে এবং নতুন করে খুব বেশি জাহাজ সেখানে প্রবেশ করছে না। এই পরিস্থিতিতে ওএইসিডি-ভুক্ত উন্নত দেশগুলো তাদের হাতে থাকা অবশিষ্ট মজুত দিয়ে হয়তো আরেকটি ধাক্কা সামলে নিতে পারবে।

তার মতে, কিন্তু জ্বালানি সংকটের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়াবহ’ রূপ ধারণ করবে। অর্থাৎ জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে উন্নয়নশীল দেশগুলো।